অনলাইন মিডিয়া লিংক

ফেসবুক
  • বাংলা ফেসবুক পেজ
এখনই দেখুন
ইউটিউব
  • বাংলা ইউটিউব চ্যানেল
এখনই দেখুন
অডিও
  • অডিও প্রবচন
এখনই দেখুন
ছবি
  • ছবি
এখনই দেখুন
প্রবচন অনুলিপি
  • প্রবচন অনুলিপি
এখনই দেখুন

জীবন বৃত্তান্ত

শ্রী শ্রীমৎ জয়পতাকা স্বামী গুরুমহারাজ

ওঁ বিষ্ণুপাদ পরমহংস পরিব্রাজকাচার্য অষ্টোত্তরশত শ্রীশ্রীমৎ জয়পতাকা স্বামী ১৯৪৯ খ্রীষ্টাব্দের ৯ই এপ্রিল আমেরিকা যুক্তরাষ্ট্রের উইসকন্‌সিন প্রদেশের মিলৌকি শহরে জন্মগ্রহণ করেন। তিনি যে দিনটিতে জন্মগ্রহণ করেছিলেন সেটি ছিল কামদা একাদশী, যে একাদশীটি ঠিক রাম নবমীর পরেই পালিত হয়।

তাঁর শৈশবকালে তিনি আধ্যাত্মিকতায় অসাধারণ বুদ্ধিমত্তা ও মহান কৌতূহলতা প্রদর্শন করেন। তাঁর বয়স যখন মাত্র এগারো বছর, তাঁর পিতামহের পরামর্শে তিনি ভগবানের দিব্য নাম জপ করার মাধ্যমে নিজেকে এক চর্মরোগের থেকে আরোগ্য করেন।

তাঁর চৌদ্দ বছর বয়সে তিনি সেন্ট্‌ জন্স একাডেমী নামক একটি মহাবিদ্যালয়ে যাওয়ার পূর্ব প্রস্তুতিমূলক বিদ্যালয়ে ভর্তি হন। যেখান থেকে তিনি অনায়াসেই স্নাতক পরীক্ষায় সর্বোচ্চ প্রাপ্ত নম্বর অর্জন করে তাঁর শ্রেণীতে প্রথমস্থান অধিকার করেন। একজন ছাত্রের মধ্যে মহান প্রতিভা রয়েছে সেটি উপলব্ধি করে আমেরিকার বেশ কয়েকটি প্রধান বিশ্ববিদ্যালয় তাকে বৃত্তি প্রদান করেছিল। তিনি ব্রাউন বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তি হন। নবীন ছাত্ররূপে একজন অতিথির নিকট হতে ভগবান বুদ্ধের জীবনদর্শন শ্রবণ করে তাঁর অন্তরাত্মা জাগরিত হয়ে ওঠে এবং জড় শিক্ষার প্রতি আকর্ষণ হারিয়ে ফেলেন। তারপর তিনি পারমার্থিক শিক্ষকের সন্ধান করতে শুরু করেন। যেহেতু পাশ্চাত্যে তিনি কোন সদ্‌গুরুর সন্ধান পেলেন না তাই তিনি ভারতবর্ষে পাড়ি দিতে মনস্থির করলেন।

About

ব্যাসপূজা

ব্যাস পূজার অর্থ

পরম পুরুষােত্তম শ্রীকৃষ্ণের শক্ত্যাবেশ অবতার শ্রীল কৃষ্ণদ্বৈপায়ন ব্যাসদেব । স্বয়ং শ্রীকৃষ্ণের সপ্তবিধ আপন শক্তিরাজির কোন একটি বা একাধিক শক্তির অভিব্যক্ত প্রকাশ করেন যে ভক্তজন, তাঁরই শক্ত্যাবেশ অবতার । শ্রীল ব্যাসদেবের মধ্যে জ্ঞান, শক্তি এতখানি সঞ্চারিত হয়েছিল যে, শ্রীচৈতন্য মহাপ্রভু তাকে ‘সর্বজ্ঞ’ বলে বর্ণনা করেছেন। শ্রীল সনাতন গােস্বামীর কাছে শ্রীচৈতন্য মহাপ্রভু এ বিষয়ে সুপ্রমাণিত করে বলেছিলেন, মুনির বাক্য শাস্ত্র পরমান’- এই মুনির দ্বারা কথিত সবকিছুই বৈদিক প্রমাণসম্মত এবং কেবল তার কথার মাধ্যমেই জড়জাগতিক বদ্ধ জীবাত্মকূল পারমার্থিক জ্ঞান অর্জন করতে পারে । পাঁচ হাজার বছরেরও আগে শ্রীল ব্যাসদেব বর্তমান কলহময় কলিযুগের ভবিষ্যদ্বাণী করেছিলেন যে, কলিযুগে মানবধর্ম, সত্যবাদিতা, শুচিতা, শান্তিভাব, করুণা, স্মৃতি, দেহবল এবং আয়ু দ্রুতগতিতে অবনতির দিকে চলবে এবং মানবজাতি নিম্নস্তরের পশু-পর্যায়ে অধঃপতিত না হওয়া অবধি এমনই চলতে থাকবে।

চরণাশ্রিত শিষ্য

১১৯২৮

হরিনাম দীক্ষিত শিষ্য

৫৪৩৭৪

ব্রাহ্মণ দীক্ষিত শিষ্য

৬৭৬১

সন্ন্যাস দীক্ষিত শিষ্য

২১

** তথ্যসূত্র: জে.পি.এস অফিস, শ্রীধাম মায়াপুর। সর্বশেষ আপডেট ১২ এপ্রিল ২০২২ খ্রিস্টাব্দ। **

অর্জন

কৃষ্ণভাবনাকে সীমাহীনভাবে প্রসারিত করা

নবদ্বীপ-মন্ডলের উন্নয়ন

মায়াপুর ধামের উন্নয়ন

৫০ হাজার দীক্ষিত শিষ্য

ভক্তিবেদান্ত স্বামী চ্যারিটি ট্রাস্ট

TOVP নির্মান

এক মাসে ১০ হাজার বড় গ্রন্থ এবং ১ লক্ষ ছোট গ্রন্থ বিতরণ করা

নাম-হট্ট বিকাশ

বাংলাদেশ ও নেপালে প্রচার করা

মায়াপুরে ২৪ ঘন্টা হরিনাম কীর্তন

প্রতিষ্ঠিত মন্দির এবং বিগ্রহ সমূহ

এখানে সকল তথ্য প্রদান করা হয় নি। যথাক্রমে তা সংগ্রহ করে প্রদান করা হবে।

নামহট্ট প্রচার

যেমনটি আমরা সবাই জানি যে, শ্রীমন্ নিত্যানন্দ প্রভু সুরভী-কুঞ্জ গোদ্রুমদ্বীপে নামহট্ট অনুষ্ঠানের উদ্বোধন করেছিলেন। এবং গৌড়-দেশের প্রতিটি নগর ও গ্রাম দিব্য-পবিত্র নামের দ্বারা প্লাবিত করেছিলেন। তারপরে শ্রীল ভক্তিবিনোদ ঠাকুর, সেই নামহট্ট কর্মসূচীর পুনঃপ্রতিষ্ঠা করেন যা শ্রীমন নিত্যানন্দ প্রভু মহান বীরত্ব, শুদ্ধত্ব ও ভক্তির সহিত সমগ্র বাংলায় ছড়িয়ে দিয়েছিলেন। তিনি শত শত প্রপান্নাশ্রমের সূচনা করেন। নামহট্ট প্রচারটি খুব সুন্দরভাবে পদ্ধতিগতভাবে, কাঠামোগতভাবে সংগঠিত ছিল এবং এটি “শ্রীগোদ্রুম কল্পাটবি” নামে পরিচিত তাঁর গ্রন্থে লিপিবদ্ধ হয়েছে। সময় যতই অতিবাহিত হতে থাকল নামহট্ট প্রচার ধীরে ধীরে অদৃশ্য হয়ে গেল।

১৯৭৭ খ্রিষ্টাব্দে, শ্রীশ্রীমৎ জয়পতাকা স্বামী মহারাজ বাংলায় এবং এর আশেপাশের ১০০০০ লোকজন নিয়ে এক মহতি সংকীর্তন প্রতিবাদের আয়োজন করেছিলেন। এটি ছিল শ্রীমায়াপুর মন্দির আক্রমণের বিরুদ্ধে এক প্রতিবাদ। সংকীর্তন প্রতিবাদের এই বিশাল পদযাত্রাটি আজ থেকে ৫০০ বছর পূর্বে চাঁদ কাজীর বিরুদ্ধে প্রতিবাদের মতো স্মরণ করা হয়ে থাকে।
তার পরে, শ্রীশ্রীমৎ জয়পতাকা স্বামী মহারাজ এক সঙ্কীর্তন সংস্থা গঠন করতে চেয়েছিলেন। এবং অনেক গ্রামবাসী শ্রীল প্রভুপাদের গ্রন্থাবলী পাঠ করার পর পূর্ণকালীন ভক্ত হিসেবে ইস্‌কনে যোগদান করার জন্য তাঁদের ইচ্ছা প্রকাশ করেছিলেন। কিন্তু, মহারাজ বুঝতে পেরেছিলেন যে কীভাবে হাজার হাজার লোককে তাঁদের পরিবার, গবাদি ইত্যাদির সাথে সমন্বয়বিধান করা সম্ভব।

সেই সময়ে, শ্রীশ্রীমৎ ভক্তিচারু স্বামী মহারাজ একখানি গৌড়ীয় পত্রিকা নিয়ে এসেছিলেন যা ১৯৫০ খ্রিষ্টাব্দে মথুরা থেকে কেশব মহারাজের মঠ দ্বারা প্রকাশিত হয়েছিল, যেখানে আমাদের শ্রীল প্রভুপাদ একজন অন্যতম সম্পাদক হিসাবে সেবাকার্য করছিলেন। আর সেখানে তিনি শ্রীল ভক্তিবিনোদ ঠাকুরের শ্রীগোদ্রুম কল্পাটবীর পাঁচটি অধ্যায়ের পুনঃপ্রকাশ করেন এবং সেই পাঁচটি অধ্যায় পাঠ করে এবং আমাদের পূর্বতন আচার্যবর্গের দৃষ্টিভঙ্গি উপলব্ধির মাধ্যমে, তিনি পূর্ব ভারতে নামহট্টের পুনঃপ্রতিষ্ঠা করেছিলেন। আর এটি শ্রীমন্মহাপ্রভুর করুণার সুনামি তৈরি করেছিল এবং প্রতিটি গ্রাম প্লাবিত করে। শ্রীশ্রীমৎ ভক্তি রাঘব স্বামী মহারাজ, শ্রীশ্রীমৎ গৌরাঙ্গ প্রেম স্বামী মহারাজ, শ্রীশ্রীমৎ ভক্তি বিলাস গৌরচন্দ্র স্বামী মহারাজ ও আরও অনেক ভক্ত এই মহান প্রচার সূত্রটি গ্রহণ করেছিলেন এবং বিশ্বজুড়ে বিশুদ্ধ ভক্তি ছড়িয়ে দিয়েছিলেন। এখন পূর্ব ভারতে আড়াই কোটিরও বেশি মানুষের কাছে এই প্রচার পৌঁছে গেছে।
এই নামহট্ট হলো আসলে গৌড়-দেশের আদি সংস্কৃতি, গৌড়ীয় বৈষ্ণবধর্মের সংস্কৃতিকে রক্ষা করেছে এবং আমাদের ভবিষ্যত প্রজন্মকে শ্রীমন্মহাপ্রভুর করুণা বুঝতে সাহায্য করেছে। আর শ্রীশ্রীমৎ জয়পতাকা স্বামী মহারাজ শ্রীল প্রভুপাদের বিজয় পতাকা হয়ে এই নামহট্ট প্রচারের মাধ্যমে বিশ্বকে জয় করছেন, এবং শ্রীল প্রভুপাদ ও পূর্বতন আচার্যবর্গের ইচ্ছা অনুসারে হরেকৃষ্ণ মহামন্ত্রের মহিমা উন্মোচন করছেন।

ভক্তিবেদান্ত স্বামী চ্যারিটি ট্রাস্ট

প্রতিষ্ঠিত সাল : ১৯৭৭ খ্রিষ্টাব্দ

শ্রীল প্রভুপাদ তাঁর সময়ে স্বল্প কিছু ট্রাস্ট গঠন করেছিলেন: BBT (ভক্তিবেদান্ত বুক ট্রাস্ট), MVT (মায়াপুর বৃন্দাবন ট্রাস্ট), BSCT (ভক্তিবেদান্ত স্বামী চ্যারিটি ট্রাস্ট)।
‘ভক্তিবেদান্ত স্বামী চ্যারিটি ট্রাস্ট’ হলো সেই ট্রাস্ট যেটি শ্রীল প্রভুপাদ এই ধরনী থেকে তিরোভাব হওয়ার কয়েক সপ্তাহ আগে ১৯৭৭ খ্রিষ্টাব্দে তৈরি করেছিলেন। শ্রীল ভক্তিসিদ্ধান্ত সরস্বতী ঠাকুর প্রভুপাদ, তাঁর মহান প্রচেষ্টা ও দৃষ্টিভঙ্গি দ্বারা শ্রীল ভক্তিবিনোদ ঠাকুরের পদাঙ্ক অনুসরণ করে শ্রীনবদ্বীপ মণ্ডলকে গড়ে তুলতে শুরু করেছিলেন। আর তিনি নিজেও বহু দিব্য স্থান অনুসন্ধান করেছেন, এবং গৌরমণ্ডল ভূমি অন্বেষণ করেছেন। তিনি গৌড়-মণ্ডল-ভূমিকে ঘিরে বিশাল পরিক্রমার প্রবর্তন করেন।

শ্রীল প্রভুপাদ তাঁর শ্রীচৈতন্যচরিতামৃতের তাৎপর্যে তিনি শ্রীচৈতন্য মহাপ্রভু এবং তাঁর পার্ষদবর্গের শ্রীপাট (লীলা-স্থানসমূহ) সম্বন্ধে যা কিছু অনুবাদ করেছেন তা তিনি শ্রীল ভক্তিসিদ্ধান্ত সরস্বতী ঠাকুর প্রভুপাদের অনুভাষ্য থেকে গ্রহণ করেছেন এটি প্রমাণ করার জন্য যে শ্রীচৈতন্য মহাপ্রভুর লীলাসমূহ কোন পৌরাণিক কাহিনী নয় এবং সেই স্থানগুলি বা শ্রীপাটগুলি এখনও বিদ্যমান। শ্রীল প্রভুপাদ শ্রীশ্রীমৎ জয়পতাকা স্বামী মহারাজকে অনুপ্রাণিত করেছিলেন, যাঁকে এই পারমার্থিক জগতের বিকাশের জন্য সেবা প্রদান করা হয়েছিল, তিনি এই নির্দেশ গ্রহণ করেছিলেন এবং আরও শ্রীপাট অন্বেষণ করা ও তার সাথে সাথে সংকীর্তন, গ্রন্থ বিতরণ, শ্রীবিগ্রহ নির্মাণ, তাঁতশিল্প তৈরি, বন্যা ত্রাণ, জীবনের জন্য খাদ্য (ফুড ফর লাইফ) ইত্যাদি কর্মযজ্ঞ শুরু করেছিলেন। আর শ্রীল প্রভুপাদের সাথে তিনি কয়েকটি শ্রীপাটেও ভ্রমণ করেছেন। এবং শ্রীল প্রভুপাদকে বিভিন্ন শ্রীপাট সম্পর্কে বিবরণ দেন এবং শ্রীপাটগুলির মন্দির রক্ষণাবেক্ষণে সাহায্যের হাত বাড়িয়ে দেন।

১৯৭৭ খ্রিষ্টাব্দে শ্রীল প্রভুপাদ ভক্তিবেদান্ত স্বামী চ্যারিটি ট্রাস্ট (BSCT) গঠন করেন এবং শ্রীশ্রীমৎ জয়পতাকা স্বামী মহারাজকে আজীবন সভাপতি (চেয়ারম্যান) করে গৌর-মণ্ডল ভূমির সীমানা ব্যাখ্যা করেন। এছাড়াও, তিনি পূর্ববর্তী আচার্যবর্গকে সন্তুষ্টি বিধান করার এক উপায় ব্যাখ্যা করেন। শ্রীশ্রীমৎ জয়পতাকা স্বামী মহারাজ এই নির্দেশকে নিজের জীবন ও আত্মা হিসাবে গ্রহণ করেছিলেন, এই শ্রীপাট গুলির সন্ধানে প্রবলভাবে তিনি শতাধিক গ্রামে ভ্রমণ করেছিলেন এবং সেই সমস্ত শ্রীপাটে মন্দির, নাট-মন্দির, রন্ধনশালা ইত্যাদি নির্মাণ করে সেই শ্রীপাটগুলির বিকাশ ঘটিয়েছেন। এইভাবে বিগত ৪৫ বছর ধরে তিনি অক্লান্তভাবে শ্রীল প্রভুপাদ, শ্রীল ভক্তিসিদ্ধান্ত সরস্বতী ঠাকুর প্রভুপাদ, গৌড়ীয় বৈষ্ণবগণ তথা শ্রীচৈতন্য মহাপ্রভুর সেবা করে চলেছেন।

মায়াপুর-বৃন্দাবন ট্রাস্ট

এই ট্রাস্টটি শ্রীল প্রভুপাদ দ্বারা গঠিত হয়েছিল। ‘মায়াপুর-বৃন্দাবন ট্রাস্ট’-কে বিশেষতঃ শ্রীল প্রভুপাদের গুরু দক্ষিণার অর্থের দ্বারা ধরে রেখেছিল। শ্রীল প্রভুপাদ এই অর্থকে চারই-বিগ্রহের সেবায় ব্যবহার করার নির্দেশ দেন, বিশেষ করে যখন তাঁদের সেবার প্রয়োজন হয়, যথা: শ্রীমায়াপুর ধামে শ্রীশ্রীরাধা-মাধব, শ্রীবৃন্দাবন ধামে শ্রীশ্রী রাধা-শ্যামসুন্দর, হায়দ্রাবাদে শ্রীশ্রী রাধামদন-মোহন এবং মুম্বাইয়ের জুহুতে শ্রীশ্রী রাধা-রাসবিহারী, এই চারি শ্রীবিগ্রহগণের সেবায়। তবে শ্রীল প্রভুপাদের শিষ্যগণ তাঁদের ঐকান্তিক সেবা দ্বারা এই সমস্ত মন্দিরগুলিকে অত্যন্ত উৎকৃষ্ট মানের ও ঐশ্বর্যপূর্ণ বিগ্রহ সেবার্চনে রেখেছেন।

শ্রীবিগ্রহের সেবার্চন ব্যতিরেকেও, MVT ট্রাস্টের অর্থসমূহ এই সমস্ত মন্দিরগুলির উন্নয়নে ব্যবহৃত হয়। আর শ্রীশ্রীমৎ জয়পতাকা স্বামী মহারাজ হচ্ছেন এই ‘এমভিটি ট্রাস্টের’ অন্যতম একজন ট্রাস্টি, তিনি শ্রীশ্রীমৎ গোপাল কৃষ্ণ গোস্বামী মহারাজের সাথে একযোগে সেবা করছেন।

সারস্বত গৌড়ীয় বৈষ্ণব অ্যাসোসিয়েশন (এস জি ভি এ)

প্রতিষ্ঠিত সাল :

শ্রীল প্রভুপাদ, তাঁর পারমার্থিক গুরুদেব শ্রীল ভক্তিসিদ্ধান্ত সরস্বতী ঠাকুর প্রভুপাদের আদেশ অনুসারে কার্য করা এবং শ্রীচৈতন্য মহাপ্রভুর বাণীকে ছড়িয়ে দেওয়ার জন্য তাঁর গুরু-ভ্রাতাদের একত্রিত করার অনেক চেষ্টা করেছিলেন। তবে তাঁর ইচ্ছামত তাঁর প্রচেষ্টা সফল হয়নি, কিন্তু তারপরও শ্রীল প্রভুপাদের প্রচারের প্রচেষ্টা এবং তাঁর ফল তাঁর গুরুভ্রাতাগণের দ্বারা খুব প্রশংসিত হয়েছিল, কেউ কেউ আবার তাঁর প্রশংসা করছিলেন না, তবে তাঁদের অধিকাংশই সারা বিশ্বে তাঁর প্রচারে খুব খুশি ছিলেন।

১৯৭৭ খ্রিষ্টাব্দে, এই জগৎ ছেড়ে যাওয়ার পূর্বে, শ্রীল প্রভুপাদ ‘ভক্তিবেদান্ত স্বামী চ্যারিটি ট্রাস্টের’ অন্যতম প্রধান লক্ষ্য হিসাবে তাঁর ইচ্ছাকে অন্তর্ভুক্ত করেছিলেন। আর তা হলো শ্রীল ভক্তিসিদ্ধান্ত সরস্বতী ঠাকুরের অনুগামীগণকে একত্রিত করা।

শ্রীল প্রভুপাদের এই অভীষ্ট পূরণ করার জন্য শ্রীশ্রীমৎ জয়পতাকা স্বামী মহারাজ এই মহান কার্যটি তাঁর প্রাথমিক কর্তব্য হিসাবে গ্রহণ করেছিলেন। এবং সারস্বত গৌড়ীয় বৈষ্ণব সভা (সঙ্গ) গঠন করেন। তাঁর প্রচেষ্টা ও সম্পর্কের দ্বারা, তিনি শ্রীল ভক্তিসিদ্ধান্ত সরস্বতী ঠাকুর প্রভুপাদের বহু শিষ্যগণের হৃদয় জয় করেছেন। আর তাঁরা “বৈচিত্র্যের মধ্যে ঐক্যতা” নীতি গ্রহণ করেছিলেন। এখনও পর্যন্ত শ্রীশ্রীমৎ জয়পতাকা স্বামী মহারাজ সমস্ত মঠকে একত্রিত করার প্রচেষ্টা করছেন এবং বৃহত্তর ও ব্যাপক অর্থে গুরু-পরম্পরা ও শ্রীনবদ্বীপ ধামের সেবা করার চেষ্টা করছেন।

ইস্‌কন শ্রীরঙ্গম

প্রতিষ্ঠিত সাল :

যেমনটি আমরা সকলেই জানি, শ্রীরঙ্গম হলো শ্রীসম্প্রদায়ের প্রধান কার্যালয়। শ্রীপাদ রামানুজ আচার্যের অনুগামীগণ, যাঁরা শ্রীবৈষ্ণব নামে পরিচিত, এই স্থানটিকে দিব্য ধাম ভু-লোক বৈকুণ্ঠ হিসাবে পালন করে থাকেন। এটি পবিত্র কাবেরী নদী (কৃতমালা) দ্বারা বেষ্টিত একটি দ্বীপ বিশেষ। এই দিব্যময় ভূমি থেকেই শ্রীল গোপাল ভট্ট গোস্বামী শ্রীমন্মহাপ্রভুর নিকট কৃপা লাভ করেছিলেন। শ্রীচৈতন্য মহাপ্রভু তাঁর দক্ষিণ ভারত সফরের সময় এখানে চার মাস (চাতুর্মাস) অতিবাহিত করেছিলেন। আমাদের গৌড়ীয় বৈষ্ণব আচার্যবর্গ এখানে সময় অতিবাহিত করেন এবং বহু শতাব্দী ধরে গৌড়ীয় ধর্ম প্রচার করেন।

১৯৯০-এর দশকের গোড়ার দিকে শ্রীশ্রীমৎ জয়পতাকা স্বামী মহারাজের শিষ্য রুকমিহা দাস, একজন সংকীর্তন ভক্ত শ্রীরঙ্গমের পদ্মাবতী কল্যাণ মন্ডপে একটি কেন্দ্র প্রবর্তণ করেছিলেন। ২০০০খ্রিষ্টাব্দে তাঁরা তাঁদের নিজস্ব ভূমি লাভ করেন এবং শ্রীশ্রীমৎ জয়পতাকা স্বামী মহারাজ শ্রীল প্রভুপাদ পূজা করে তা উদ্বোধন করেন। ২০০১ খ্রিষ্টাব্দে তাঁরা তাঁদের নিজস্ব ভূমিতে একটি ছোট্ট কুঁড়েঘর দিয়ে অকিঞ্চনভাবে তার প্রারম্ভ করেন। ক্রমে ক্রমে বছরের পর বছর ধরে শ্রীরঙ্গমের চতুর্দিকে প্রচারের পর তা ছড়িয়ে পড়ে এবং বহু ভক্ত শ্রীশ্রীমৎ জয়পতাকা স্বামী মহারাজের নিকট হতে দীক্ষা গ্রহণ করেন।

দক্ষিণ ভারত সাফারি কর্মসূচী চলাকালীন শ্রীশ্রীমৎ জয়পতাকা স্বামী মহারাজ বিদেশ থেকে শত শত ভক্তকে নিয়ে আসতেন এবং শ্রীরঙ্গম পরিদর্শনে যেতেন। সুবিখ্যাত এই শ্রীরঙ্গনাথ শ্রীবিগ্রহ যাঁকে ভগবান শ্রীরামচন্দ্র স্বয়ং পূজা করেছিলেন।
সেখানে, শ্রীশ্রীমৎ জয়পতাকা স্বামী মহারাজের বেশ কয়েকজন শিষ্য এই কেন্দ্রের উন্নয়নে তাঁদের সময় এবং শক্তি উৎসর্গ করেন, তাঁদের মধ্যে কয়েকজনের নাম হলো: শ্রীপাদ রথীশা দাস, বনমালি গোপাল দাস, রত্নবাহু গৌরাঙ্গ দাস (যিনি এই কেন্দ্রের জন্য জমি দান করেছিলেন), রঙ্গরাজ কৃষ্ণ দাস, অশোক গোবিন্দ দাস, দয়াল গোবিন্দ দাস, বর্তমানে নন্দ পুত্র দাস এই কেন্দ্রের তত্ত্বাবধান করছেন। অধিষ্ঠাতা শ্রীবিগ্রহগণ হলেন ‘শ্রীশ্রী জগন্নাথ, বলদেব, সুভদ্রা’ এবং ‘সুদর্শন’, ‘শ্রীশ্রী নিতাই-গৌরাঙ্গ’, ‘শ্রীশ্রী লক্ষ্মী-নরসিংহ’ এবং ‘শ্রীল প্রভুপাদ’। শ্রীশ্রীমৎ জয়পতাকা স্বামী মহারাজের নির্দেশ অনুসারে এখন SIHE (শ্রীরঙ্গম ইন্‌স্টিটিউট অফ্‌ হায়ার এডুকেশন) তামিল ভাষায় ভক্তি-শাস্ত্রী পাঠ্যক্রম শেখানো শুরু করেছে। আর এখানে ইস্‌কনের সমস্ত প্রধান প্রধান উৎসবগুলি অত্যন্ত জাঁকজমকপূর্ণভাবে পালিত হয়।

ম্যাগাজিন

প্রশ্ন ও উত্তর

যখন তুমি গুরু এবং কৃষ্ণের সেবায় নিয়োজিত থাকবে তখন স্বাভাবিকভাবেই তুমি গুরু এবং কৃষ্ণের সান্নিধ্য থাকবে এবং এটি তুমি অনুভব করতে পারবে। সুতরাং আমরা সরাসরি গুরুদেব অথবা তার বাণীর সেবা করার চেষ্টা করি। এই প্রকারে আমরা যুক্ত থাকতে পারি।

অবশ্যই, আমাদের কৃষ্ণের আশ্রয় নেওয়া উচিত এবং নিজেদেরকে বাঁচানোর চেষ্টা করার জন্য আমাদের বুদ্ধিমত্তা ব্যবহার করা উচিত। বাসুদেবের মতো, কংস যখন তার স্ত্রী দেবকীকে হত্যা করতে চেয়েছিলেন, তখন তিনি তাকে বাঁচানোর জন্য নানাভাবে চেষ্টা করেছিলেন। অবশেষে, তিনি যখন কংসকে সমস্ত সন্তান দেবেন বলে বললেন, তিনি মেনে নিলেন।

শিক্ষাষ্টকের তৃতীয় শ্লোকটি মেনে চলার চেষ্টা করুন- নিজের জন্য কোন সম্মানের প্রত্যাশা ব্যতিরেকে সবাইকে সম্মান প্রদান করুন। বোধ হয় আপনি সবাইকে সম্মান প্রদর্শন করছেন না, যা করা আমাদের কর্তব্য। যখন আমরা অবহেলা করি তখন আমাদেরকে ভুগতে হবে। আমাদের উচিত বৈষ্ণবদের প্রশংসা করা এবং এটি আমাদের সাফল্যের গোপন চাবিকাঠি।

আমাদের পক্ষে বোঝা শক্ত কখন আমরা ভগবদ্ধামে ফিরে যেতে পারবো, এবং এটি শ্রীকৃষ্ণের দ্বারা নির্ধারিত হয় এবং আমরা তার পূর্বে যেতে পারি না। তো, আমরা কৃষ্ণভাবনামৃত অনুশীলন করার চেষ্টা করি। তখন স্বাভাবিক ভাবেই আমরা শ্রীকৃষ্ণের ব্যাপারে চিন্তা করি, কারণ আমরা জানি না কতক্ষন বেঁচে থাকতে হবে সুতরাং আমাদের সর্বদাই কৃষ্ণের নিকট ফিরে যাওয়ার জন্য প্রস্তুত থাকতে হবে।

অধ্যায়ন করে স্বাভাবিভাবেই চিনময় গুণাবলী অর্জন করা উচিত এবং অধ্যায়নের মাধ্যমে স্বাভাবিকভাবেই সে বিভিন্ন আধ্যাত্বিক ব্যক্তিত্বের সঙ্গলাভের সুযোগ পায়, সুতরাং আমরা ঐ সমস্ত গুণাবলী অর্জনের চেষ্টা করি। এবং অন্তিমে আমরা অনেক কিছু অর্জন করতে পারি। অন্যান্য যে সমস্ত গুণাবলী রয়েছে যেমন ধৈর্য্য, সহ্যশক্তি সাধারণত গ্রন্থ অধ্যয়নের দ্বারা লাভ হয়।

বেশ, যদি আমরা মানসে মন্দির অথবা ধামে বাস করি এইভাবে ইন্টারনেটে আমি বিভিন্ন স্থান দর্শন করি। কিন্তু আমি অবশ্যই নিয়মিত মায়াপুরের মঙ্গলারতি তে যোগদান করি।এভাবে ইউটিউব, ফেসবুক, মায়াপুর টিভির মাধ্যমে আপনি অনেক মন্দিরের দর্শন লাভ করতে পারবেন আমরা এইভাবে মানসে পবিত্র ধাম দর্শন করতে পারি।

হ্যা, আসলে দুই প্রকারের ভক্ত রয়েছে, ভজনানন্দী এবং গোষ্ঠানন্দী। ভজনানন্দীরা তাদের ব্যক্তিগত মুক্তিলাভ কে জীবনের লক্ষ্য বলে গণ্য করে। গোষ্ঠানন্দীরা অন্যান্য ভক্তদেরকে সঙ্গে নিয়ে ভগবদ্ধামে ফিরে যেতে চায়। আমাদের পরম্পরা টি হল গোষ্ঠানন্দী পরম্পরা। আমরা কৃষ্ণভক্তি অনুশীলন করি এবং একইসঙ্গে ভক্ত সংখ্যা বৃদ্ধির জন্য চেষ্টা করি সুতরাং আমাদের কাজ হল কৃষ্ণ ভক্তি অনুশীলনের সাথে সাথে প্রচারে অংশগ্রহণ করা।

শ্রীল প্রভুপাদ বলেছেন যে দীক্ষিত বা অদীক্ষিত যে কেউ ভক্তিশাস্ত্রী পাঠক্রমে অংশ নিতে পারবে। কিন্তু কেউ যদি সন্ন্যাস বা ব্রাহ্মণ দীক্ষা নিতে চায় বা গুরু হওয়ার জন্য তার কিছু আচার-ব্যবহার পর্যবেক্ষণ করতে হয়। শিক্ষামূলক পাঠক্রমে যে কেউ অংশ নিতে পারে।

আমাদের বারোটির সবকটি গুণাবলী অর্জন করার জন্য চেষ্টা করা উচিত। যদি কোন ক্ষেত্রে আমাদের অসুবিধা হয় তাহলে আমাদের জ্যেষ্ঠ গুরুভ্রাতা অথবা গুরুদেবের শরণাপন্ন হওয়া উচিৎ । দীক্ষা গ্রহণের অর্থ হলো নবজন্ম গ্রহণ করা। জন্মের পরে অন্যান্য বিষয়ে অংশগ্রহণের মাধ্যমে সেগুলি গড়ে তোলা যায়। এমনটি নয় যে জন্ম থেকেই আপনি সমস্ত গুণাবলী লাভ করবেন, অনুশীলনের মাধ্যমে আপনাকে সেগুলি অর্জন করতে হবে।

দীক্ষা আমাদের আধ্যাত্বিক জীবনের সূচনা মাত্র। আমাদের এমনটি ভাবা উচিত নয় যে দীক্ষার পরে সে খুব উচ্চ স্তরে পৌঁছে গেছে। দীক্ষাকে বলা হয় পারমার্থিক জন্মগ্রহণ। যদি আপনি অজন্মা থেকে যেতে চান তাহলে আপনার দীক্ষা গ্রহণের দরকার নেই। কিন্তু যদি আপনি জন্ম লাভ করতে চান তাহলে দীক্ষা গ্রহণ করা গুরুত্বপূর্ণ। এটি আপনাকে গুরু পরম্পরার সঙ্গে সংযুক্ত করে। এটি আপনাকে দিক্ষা গুরুর সাথেও যুক্ত করে। দীক্ষার পূর্বে সবকিছু কেবল অনুশীলন মাত্র। দীক্ষার সময় আপনি কিছু প্রতিশ্রুতি গ্রহণ করেন এবং সেগুলি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। আপনি কমপক্ষে ১৬ মালা জপ, চার নিয়ম পালন, এবং আমার শিষ্যদেরকে আমি আরো একটি প্রতিশ্রুতি গ্রহণ করতে বলি - শ্রীল প্রভুপাদের নির্দেশসমূহ পালনে আমকে সহযোগিতা করা। সাধারনত এটুকুই যথেষ্ট। কিন্তু মাঝে মাঝে আমি কোন কোন ভক্তকে কিছু বিশেষ উপদেশ বা নির্দেশ প্রদান করে থাকি। তাদের সেটি পূরণ করা উচিৎ।

সাফারি

দৈনিক উক্তি

জানুয়ারী- ০১

শ্রীল প্রভুপাদের উদ্দেশ্য

স্বামীজিকে (শ্রীল প্রভুপাদকে) জিজ্ঞাসা করা হয়েছিল, “আপনার উদ্দেশ্য কী স্বামীজি?” তিনি বলেছিলেন, “আমার উদ্দেশ্য খুবই সরল। আমি জনসাধারণের চিন্তা করার ধরণকে পরিবর্তন করতে চাই।” জনগণের অধিক পরিমাণে কৃষ্ণের সম্বন্ধে চিন্তা করা প্রয়োজন; তাদের বাহ্যিক অস্তিত্বকে বোঝা প্রয়োজন।

—০১ জানুয়ারি ২০১৬ খ্রিষ্টাব্দ, পার্থ, অস্ট্রেলিয়া

জানুয়ারী-০২

করুণা বিশেষ

আমরা আমাদের আধ্যাত্মিক গুরুকে সন্তুষ্ট করার জন্য ভজন করি এবং যদি তিনি সন্তুষ্ট হন, আমরা পারমার্থিক উন্নতি সাধন করতে পারব। ভজনা আমাদের পারমার্থিক অগ্রগতি দিচ্ছে না, এটি হচ্ছে তাঁর কৃপার দ্বারা। আমরা গুরু এবং গৌরাঙ্গের কৃপার ওপর নির্ভর করছি।

—০২ জানুয়ারি ১৯৮০ খ্রিষ্টাব্দ, শ্রীধাম মায়াপুর, ভারত়া।

জানুয়ারী-০৩

নামে রুচি লাভের পন্থা

ভগবানের কাছে প্রার্থনা করতে হবে এবং মহামন্ত্র জপ করার সময় মনঃসংযোগ করতে হবে; তাহলেই অল্প সময়ের মধ্যে তুমি পুনরায় হরিনামের প্রতি মনোনিবেশ করতে পারবে এবং নাম জপের প্রতি রুচি ফিরে পাবে।

—০৩ জানুয়ারি ২০১৫ খ্রিষ্টাব্দ, পাঞ্জাবীবাগ, নয়া দিল্লী, ভারত

জানুয়ারী-০৪

শ্রবণের দ্বারা অনুভব

কৃষ্ণপ্রেম হচ্ছে আমাদের জন্মগত অধিকার, এটি এমন নয় যে তা উপার্জন করতে হবে; এটি সকল জীবসত্তার মধ্যেই রয়েছে এবং শুদ্ধ ভক্তের নিকট হতে শ্রবণের দ্বারা ভগবান শ্রীকৃষ্ণের প্রতি সেই প্রেম অনুভব করা যায়।

—০৪ জানুয়ারি ২০১৭ খ্রিষ্টাব্দ, কোয়েম্বাটুর, ভারতবর্ষ

জানুয়ারী-০৫

কৃষ্ণভাবনায় পরীক্ষা

কৃষ্ণ শুদ্ধভক্তদের মহত্ত্ব প্রদর্শন করান, কারণ যিনি শুদ্ধভক্ত নন, তিনি কোনও পরীক্ষার সম্মুখীন হন না। তারা ক্ষুদ্রতম সমস্যার সম্মুখীন হন, যা তাদের সাধ্যের আনুকুল্যে। যদি প্রভু যীশু খ্রিষ্টকে ক্রুশবিদ্ধ না করা হত, তাহলে আমরা জানতে পারতাম না যে, তিনি কত মহান ছিলেন। যদি হরিদাস ঠাকুরকে বাইশ বাজারে বেত্রাঘাত করা না হত এবং তিনি যদি জীবিত না থাকতেন, তাহলে তাঁর মহত্ত্বের পরিচয় আমরা পেতাম কি? সেরকম, মাঝেমধ্যে একজন ভক্তকেও বিভিন্ন সমস্যার মোকাবেলা করতে হয় এবং এতে অন্যান্য ভক্তরা অনুপ্রেরণা পান এবং কৃষ্ণভাবনায় আরও উৎসাহী হতে পারেন।

—০৫ জানুয়ারি ২০১৫ খ্রিষ্টাব্দ, শ্রীল প্রভুপাদ কথা, নয়াদিল্লী, ভারত়া।

জানুয়ারী-০৬

ব্রহ্মবৈবর্ত পুরাণে প্রদত্ত ভবিষ্যৎবাণী

ব্রহ্মবৈবর্ত পুরাণে এটি ভবিষ্যৎবাণী করা হয়েছে যে, ১০,০০০ বছরের স্বর্ণযুগটি একজন সন্তের দ্বারা সূচনা হবে যিনি বিশ্বব্যাপী দিব্য নাম প্রচার করবেন। একজন ব্যক্তি কেবল এই কীর্তন করার দ্বারাই অতি সহজে ভগবৎ ধামে ফিরে যেতে পারবে। এটি হচ্ছে চিরকালের সবচাইতে সহজতম উপায়।

—০৬ জানুয়ারি ২০১৪ খ্রিষ্টাব্দ, প্রবচন, কোয়েম্বাটুর, ভারত

জানুয়ারী-০৭

হে যশোদা, কেমন করে আপনি এই ধরনের সমস্ত কৃপা লাভ করেছেন?

তামিল ভক্তগণ কিছু ভজন গেয়ে থাকেন, যেই গানটি যশোদা গুণকীর্তন করে। এই ভজনটি শুরু হয়, “আপনি কেমন পুণ্য কর্মকাণ্ড এবং ব্রত সম্পাদন করেছিলেন যার জন্য আপনি পরম পুরুষোত্তম ভগবানের মাতা হওয়ার ঈপ্সিত পদ অর্জন করেছেন? আপনি কী এমন মহান কার্য সম্পাদন করেছেন যার দ্বারা আপনি তাঁকে উদূখলের সঙ্গে বন্ধন করার সৌভাগ্য অর্জন করেছেন? এমন কী মহান কার্য আপনি সম্পাদন করেছিলেন, যার ফলে আপনি পরম পুরুষোত্তম ভগবানকে বকুনি দেওয়ার রাজকীয় অধিকার অর্জিত করতে পেরেছেন? এবং কী এমন গৌরবান্বিত কার্যাবলী সম্পাদন করেছেন যা আপনাকে পরমেশ্বর ভগবানকে স্তনদুগ্ধ পান করানোর বিশেষ পদাধিকার প্রদান করেছে? কেমন করে ভগবান আর সকলকে পরিত্যাগ করে আপনাকে তাঁর মাতা হওয়ার জন্য পছন্দ করেছেন? হে যশোদা, কেমন করে আপনি এই ধরনের সমস্ত কৃপা লাভ করেছেন?”

—০৭ জানুয়ারি ২০১৭ খ্রিষ্টাব্দ, কোয়েম্বাটুর, ভারতবর্ষ

জানুয়ারী-০৮

অনেক ভালোবাসা ব্যয় করা প্রয়োজন

শ্রীল প্রভুপাদ বলেছেন, কাউকে কৃষ্ণভক্ত করতে হলে অনেক ভালোবাসা ব্যয় করা প্রয়োজন। এটা খুবই মহিমান্বিত একটা ব্যাপার। আমরা চাই সকলে স্বতঃস্ফূর্ত ভগবৎ সেবার স্তরে অধিষ্ঠিত হয়ে কৃষ্ণকে পরমানন্দে ভালোবাসুক।

—০৮ জানুয়ারি ১৯৮৪ খ্রিষ্টাব্দ, নিউ অর্লিন্স, লুসিয়ানা, আমেরিকা

জানুয়ারী-০৯

শ্রীকৃষ্ণ–বিমুখতাই কষ্টের কারণ

এই পৃথিবীও ভগবানের রাজ্য, তবুও মানুষ কেন কান্না করছে? কেন তারা কষ্ট পাচ্ছে? অনেকে বলবে, “যেহেতু সবকিছু ভগবানের দ্বারা নিয়ন্ত্রিত হচ্ছে, তবে আমরা কেন কষ্ট পাচ্ছি?” কেননা, তারা কৃষ্ণকে ত্যাগ করেছে। তারা কৃষ্ণের পরমেশ্বরত্বকে অস্বীকার করেছে, কৃষ্ণ থেকে বিমুখ হয়েছে এবং পরিবর্তে তারা কেবল নিজেদের ইন্দ্রিয়তৃপ্তির বাসনা করছে, তারা আসুরিক প্রবৃত্তির কাছে পরাজিত হয়েছে।

—০৯ জানুয়ারি ১৯৮২ খ্রিষ্টাব্দ, কলকাতা, ভারত

জানুয়ারী-১০

কৃষ্ণকেন্দ্রিক যা কিছু ঘটে, তা সবই উত্তম

যখন ভগবান শ্রীকৃষ্ণ শ্রীচৈতন্য মহাপ্রভুরূপে অবতীর্ণ হয়েছিলেন তখন এই সমস্ত গুরুতর পাপীদের প্রাণনাশ করার পরিবর্তে তিনি তাদের হৃদয় গলিত করতেন, তাদেরকে ভক্তে পরিণত করতেন এবং কৃষ্ণপ্রেম দান করতেন। এইভাবে তিনি তাদের আসুরিক প্রবৃত্তির নাশ এবং জীবনের উৎকর্ষতা দান করতেন। কৃষ্ণকেন্দ্রিক যা কিছু ঘটে, সবই উত্তম।

—১০ জানুয়ারি ১৯৮৫ খ্রিষ্টাব্দ, নিউ তালবন, আমেরিকা

জানুয়ারী-১১

আদর্শ জপ

আদর্শ জপ হচ্ছে জপের সময় হরেকৃষ্ণ মহামন্ত্র শ্রবণ করা।

—১১ জানুয়ারি ২০১১ খ্রিষ্টাব্দ, প্রবচন, অস্ট্রেলিয়া

জানুয়ারী-১২

যুক্ত–বৈরাগ্য পদ্ধতি

যদি আমরা যুক্ত-বৈরাগ্যের পদ্ধতি অনুসরণ করি, তার মানে মনকে কৃষ্ণের সেবায় নিযুক্ত করা। তা মনকে নিয়ন্ত্রণে রাখে এবং সেই কারণে আমাদের সর্বদা কিছু ভক্তিমূলক সেবা করতে হয়; আমরা জপ করি এবং কিছু ব্যবহারিক সেবা করি। আমরা আমাদের মনকে অকর্মা ফেলে রাখতে পারি না।

—১২ জানুয়ারি ২০১৪ খ্রিষ্টাব্দ, সান্ধ্যকালীন প্রশ্নোত্তর, চেন্নাই, ভারত

জানুয়ারী-১৩

আমরা ঈর্ষার ধারে কাছেও যেতে চাই না

আমি ঈর্ষাপরায়ণ হওয়া অনুমোদন করি না এবং একজন ভক্তের তা-ই হওয়া উচিত। কারণ, নিৰ্মৎসর বা হিংসামুক্ত হওয়া ভক্তের একটি অন্যতম গুণ। আমরা হিংসামুক্ত থাকতে চাই এবং আমাদের ভক্তির প্রগতি সাধন করতে চাই। ঈর্ষার ধারে কাছেও আমরা যেতে চাই না।

—১৩ জানুয়ারি ২০১১ খ্রিষ্টাব্দ, প্রবচন, অস্ট্রেলিয়া

জানুয়ারী-১৪

আমরা একটি গুপ্ত হাতিয়ার পেয়েছি–মহাপ্রভুর কৃপা

আমরা একটি গুপ্ত হাতিয়ার পেয়েছি– তা হল শ্রীচৈতন্য মহাপ্রভুর কৃপা। তিনি ভবিষ্যদ্বাণী করেছিলেন যে, এই হরেকৃষ্ণ মহামন্ত্র জপ-কীর্তনের মাধ্যমে আপনি সকল মানুষের পরিত্রাণ করতে পারেন। বিশেষত তাদের যারা স্বাভাবিকভাবে এই ধরণের সুযোগ পায় না।

—১৪ জানুয়ারি, ১৯৮৬ খ্রিষ্টাব্দ, রথযাত্রা উৎসব, চেন্নাই, ভারত

জানুয়ারী-১৫

মহাত্মা হওয়ার সহজ পন্থা

আমরা চাই আপনারা সবাই মহাত্মা হয়ে উঠুন। এটি কঠিন কাজ নয়। আপনারা কেবল কৃষ্ণবিগ্রহ রাধা-গোপীনাথ, রাধা-বল্লভ অথবা শ্রীচৈতন্যদেবের বিগ্রহের সামনে গিয়ে দাঁড়ান এবং বলুন “আমি নিজেকে তোমাদের চরণে সমর্পণ করলাম। আমার এই জীবন, তোমাদের আনন্দ বিধানের জন্য। কৃপা করে তোমাদের সেবায় আমাকে নিযুক্ত কর। আমি শরণাগত।”

—১৫ জানুয়ারি ২০১১ খ্রিষ্টাব্দ, প্রবচন, অস্ট্রেলিয়া

জানুয়ারী-১৬

ভারতীয় সংস্কৃতির প্রশংসা করে লাভ কি? যখন তারা পাশ্চাত্যের অনুকরণ করছে

ভারতীয় সংস্কৃতির প্রশংসা করে লাভ কি? যখন তারা পাশ্চাত্যের অনুকরণ করছে, যখন সকল ভারতীয়রা নরকে যাচ্ছে। শ্রীল প্রভুপাদ ‘নতুন কাক ও পুরাতন কাক’ এর গল্পটি বলেছিলেন। পুরাতন কাকেরা আবর্জনার তারিখ বিবেচনা করে গ্রহণ করে। পাশ্চাত্যের ভক্তরা সব ধরনের আবর্জনা পরীক্ষা করে ফেলেছে এবং তারা ক্ষান্ত। তারা নতুন কিছু চায়। পাশ্চাত্য জগতের নব্য অনুকরণকারীরা যেকোন পুরাতন আবর্জনা খায়। প্রভুপাদ ভারতে এটি বন্ধ করতে চেয়েছিলেন। আমি লস্ এঞ্জেলসে তাঁকে বলতে শুনেছি যে রুক্মিণী-দ্বারকানাথ বিগ্রহ পাশ্চাত্যের পাশাপাশি তাকে ভারতেও প্রচার করতে বলেছিলেন।

—১৬ জানুয়ারি ২০১৮ খ্রিষ্টাব্দ, শ্রীল প্রভুপাদ সম্পর্কে প্রবচন, জুহু, ভারত

জানুয়ারী-১৭

পৃথিবীর সবচাইতে খুশি এবং দয়ালু ব্যক্তি

বহু মানুষের কাছে, শ্রীল প্রভুপাদকে তাঁর কিছু চিত্রে খুব গম্ভীর বলে মনে হয়; কিন্তু, আমার কাছে (যেহেতু আমি তাঁর খুবই নিকটস্থ ছিলাম), শ্রীল প্রভুপাদ ছিলেন এই পৃথিবীর সবচাইতে খুশি এবং দয়ালু ব্যক্তি। তাঁর প্রকট লীলায়, তাঁর চক্ষুদ্বয় প্রায় অশ্রুসিক্ত হতো এবং তিনি প্রতিনিয়তই ভক্তদের উদ্ধারের জন্য প্রার্থনা করতেন।

—১৭ জানুয়ারী ২০১৬ খ্রিষ্টাব্দ, চেন্নাই, ভারত

জানুয়ারী-১৮

ভগবান শ্রীকৃষ্ণের চরণে আশ্রয় গ্রহণ

তোমাকে স্মরণ করতে পারি এবং কখনও যেন তোমাকে ভুলে না যাই। এভাবেই আমরা ভগবান শ্রীকৃষ্ণের চরণে আশ্রয় গ্রহণ করতে পারি।

—১৮ জানুয়ারি ২০১১ খ্রিষ্টাব্দ, প্রবচন, অস্ট্রেলিয়া

জানুয়ারী-১৯

পঞ্চতত্ত্ব মন্ত্র জপ

আমার সাথে এক ব্যক্তির সাক্ষাৎ হয়েছিল তিনি বলেছিলেন, তিনি ২৬ বছর ধরে ১৬ মালা জপ করছেন। তিনি বলেছিলেন, এটি তাকে কোনরূপ স্বাদ অনুভূতি দিতে পারেনি। আমি তাকে জিজ্ঞেস করেছিলাম যে, তিনি ভগবান শ্রীচৈতন্য মহাপ্রভুর অনুসারী ছিলেন কিনা। তিনি উত্তর করেছিলেন– ‘না’। আমি এটি আপনার উদ্দেশ্যে লিখছি...“শ্রীকৃষ্ণচৈতন্য প্রভু নিত্যানন্দ। শ্রীঅদ্বৈত গদাধর শ্রীবাসাদি গৌরভক্তবৃন্দ॥” আমি বলেছিলাম, প্রত্যেক মালা হরেকৃষ্ণ মহামন্ত্র জপের পূর্বে এটি উচ্চারণ করতে। তারপর প্রায় দু’মাস পর ফিরেছিলাম এবং এই ব্যক্তিটি এসে আমার পায়ে পড়ে বলেছিলেন, “আপনি কি মন্ত্র দিলেন গুরুদেব!” ওঃ, আমি এখন হরেকৃষ্ণ জপে এত আনন্দ পাচ্ছি!...তাই বেশি বেশি পঞ্চতত্ত্ব মন্ত্র জপ করার চেষ্টা করুন। এতে আপনি অধিক স্বাদ আস্বাদন করতে পারবেন।

—১৯ জানুয়ারী ২০১১ খ্রিষ্টাব্দ, অস্ট্রেলিয়া

জানুয়ারী-২০

মায়ার ভয়ংকর প্রভাব থেকে মুক্ত হওয়ার উপায়

যদি তিনি (আমাদের আধ্যাত্মিক গুরু) আমাদের যে কাউকে সেবা করার নির্দেশ দেন তাহলে তাঁর নির্দেশসমূহ অনুসরণের মাধ্যমে আমরা সেবা করতে পারি। তখন আমরা মায়ার ঝুঁকি থেকে মুক্ত হব। তখন আমাদের সেবা মনোভাব ত্রুটিমুক্ত থাকবে। কিন্তু, যত শীঘ্রই আমরা আমাদের আধ্যাত্মিক গুরুর ইচ্ছার বাইরে কিছু করার চেষ্টা করি অবিলম্বে আমরা বিপজ্জনক তরঙ্গ স্রোতের সম্মুখীন হই। আমাদের প্রামাণিক গুরুর সিদ্ধান্তসমূহ মেনে চলা উচিত।

—২০ জানুয়ারি ১৯৮০ খ্রিষ্টাব্দ, শ্রীধাম মায়াপুর, ভারত

জানুয়ারী-২১

সুযোগের সদ্‌ব্যবহার

দৃঢ়নিষ্ঠ হওয়া, সমস্ত কুলকে মুক্ত করা এবং এ জন্মেই ভগবদ্ধামে ফিরে যাওয়াই কি উত্তম নয়? যখন আমাদের সুযোগটি রয়েছে তখন অন্যকিছু করার কি দরকার?

—২১ জানুয়ারি ২০১১ খ্রিষ্টাব্দ, প্রবচন, অস্ট্রেলিয়া

জানুয়ারী-২২

করুণার বিকাশ

যদি আমরা কৃষ্ণকৃপাশ্রীমূর্তি শ্রীল অভয়চরণারবিন্দ ভক্তিবেদান্ত স্বামী প্রভুপাদের শিক্ষাসমূহ অধ্যয়ন করি আমরা বুঝতে পারব প্রকৃতপক্ষে তিনি কতটা করুণাশীল ছিলেন। তাঁর আসার দরকার ছিল না। তিনি বৃন্দাবনে অবস্থান করেছিলেন। কিন্তু, তিনি পাশ্চাত্যে আসার পথে সমস্ত কষ্ট স্বীকার করেছিলেন, কেন? কারণ তিনি আপনাদের ভালবাসেন। তিনি বলেছিলেন, “যদি তোমরা কৃষ্ণভাবনায় সুখী হও, তাহলে আমি অত্যন্ত আনন্দিত হব।”

—২২ জানুয়ারি ২০১১ খ্রিষ্টাব্দ, প্রবচন, অস্ট্রেলিয়া

জানুয়ারী-২৩

পরিস্থিতি যেমনই হোক, আমাদের উচিত শ্রীকৃষ্ণের আশ্রয় গ্রহণ করা

আপনারা দেখুন পরিস্থিতি যেমনই হোক না কেন, আমাদের উচিত শ্রীকৃষ্ণের আশ্রয় বিশেষভাবে গ্রহণ করা। তিনি (শ্রীকৃষ্ণ) বলেছেন, মামেকং শরণং ব্রজ। অহং ত্বং সর্বপাপেভ্যো, মোক্ষয়িষ্যামি মা শুচঃ॥ তাই বিশেষভাবে ভগবান শ্রীকৃষ্ণের আশ্রয় গ্রহণের মাধ্যমে, অসুবিধার সময়েও আমরা তাঁর করুণা লাভ করতে পারব।

—২৩ জানুয়ারি ২০১১ খ্রিষ্টাব্দ, প্রবচন, অস্ট্রেলিয়া

জানুয়ারী-২৪

কর্ম, অকর্ম, বিকর্ম

আমাদের কর্মসমূহ, যেগুলি স্বভাবতই আমাদের নিকট আসে; আমরা তা চাই না, আমরা কর্মকে অতিক্রম করতে চাই এবং কৃষ্ণপ্রেম লাভ করতে চাই। কৃষ্ণভক্তি বলতে আমি ভক্তদের বলি, দয়া করে তিলক ধারণ করুন, কারণ আমরা কর্ম দ্বারা নিয়ন্ত্রিত হতে চাই না। আমরা ভগবান শ্রীকৃষ্ণের আশ্রয়ে থাকতে চাই। তাই যেকোন ক্ষেত্রে, আমরা আমাদের কর্মসমূহ উপভোগ বা দুঃখভোগ করতে চাই না, প্রকৃতপক্ষে এগুলি তেমনই। আমরা ভক্তিমূলক সেবা সম্পাদন করতে চাই। সেই কারণেই আমরা কর্ম করি না। আমরা বিকর্ম করি না, আমরা অকর্ম করি। তাই আমরা আমাদের সমস্ত কার্যাবলীকে ভক্তিমূলক সেবায় সম্পাদন করতে চাই।

—২৪ জানুয়ারি ২০১১ খ্রিষ্টাব্দ, প্রবচন, অস্ট্রেলিয়া

জানুয়ারী-২৫

একটি মহৎ সেবা

যারা অনুশীলন করছেন, অন্যদেরকে কৃষ্ণভাবনাময় হতে সাহায্য করছেন, তাঁরা একটি মহৎ সেবা করছেন। তাঁরা ভগবান কৃষ্ণের খুব প্রিয়।

—২৫ জানুয়ারি ২০১৭ খ্রিষ্টাব্দ, প্রবচন, দামোদরদেশ (দুবাই)

জানুয়ারী-২৬

আধ্যাত্মিক গুরুর ক্লেশভোগের কারণ

আধ্যাত্মিক গুরু একজন শিষ্য গ্রহণ করেন। পরে শিষ্যটি গুরুদেবের আদেশ পালন নাও করতে পারেন এবং নিয়মনীতিগুলি ভঙ্গ করতে পারেন বা কিছু অপরাধমূলক কর্মে নিযুক্ত হতে পারেন এবং শ্রীগুরুদেবকে এর জন্য কষ্ট ভোগ করতে হয়। স্বপ্ন, অসুস্থতা বা অন্য অনেক উপায়ে ক্লেশ ভোগ করতে পারেন।

—২৬ জানুয়ারি ১৯৯৩ খ্রিষ্টাব্দ, ইস্‌কন, ব্যাঙ্গালুর

জানুয়ারী-২৭

পরম লক্ষ্যের কথা না ভুলা

মাতা দেবহুতি ও কর্দম মুনি গৃহস্থ আশ্রমে প্রবেশ করলেও তাঁরা পরম লক্ষ্যের কথা ভুলে যাননি। সকলের উচিত তাঁদের অনুসরণ করা।

—২৭ জানুয়ারি ১৯৮৫ খ্রিষ্টাব্দ, প্রবচন, শ্রীমদ্ভাগবত ৩/২৩/৪৪, হনলুলু, হাওয়াই, ইউ.এস.এ

জানুয়ারী-২৮

আভ্যন্তরীণ শান্তি লাভের পন্থা

শ্রীমদ্ভগবদ্‌গীতায় সভ্য মানবজাতির জন্য প্রয়োজনীয় তথ্য রয়েছে। সেই তথ্যের দ্বারা কেবল একজন প্রকৃত আভ্যন্তরীণ শান্তি পেতে পারে।

—২৮ জানুয়ারি ১৯৯৫ খ্রিষ্টাব্দ, শ্রীমদ্ভগবদ্গীতা, ২/২০ প্রবচন, মথুরাদেশ (মাস্কাট)

জানুয়ারী-২৯

সংস্কার ও সংকীর্তন

গৃহস্থ আশ্রমে জড় জাগতিক কাজকর্মে নিমগ্ন থাকার প্রবণতা বেশি দেখা দেয়। কিন্তু, তা নিবারণ করা যায় এবং একইসাথে ভবিষ্যৎ প্রজন্ম রক্ষার্থে গৃহস্থদের নতুন বংশবৃদ্ধি ও সন্তান উৎপাদনের মত গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব রয়েছে। তাই যদি এসব সন্তানদের সঠিক আধ্যাত্মিক পরিবেশে লালন পালন করা যায় তবে এটি ইঙ্গিত করে যে, পৃথিবীর ভবিষ্যৎ খুবই আশাপ্রদ হতে যাচ্ছে। এমনকি সংস্কারগুলিকে কার্যকরী হিসেবে বিবেচনা করা হবে না, যদি না আগে ও পরে সংকীর্তন যজ্ঞ সম্পাদিত হয়।

—২৯ জানুয়ারি ১৯৮৬ খ্রিষ্টাব্দ, আগমনী বক্তব্য, ঈপোহ, মালয়েশিয়া

জানুয়ারী-৩০

সরলভাবে ভগবানের সেবা

যখন কেউ ভগবানের প্রতি সেবা প্রদান করে, ভগবান শ্রীকৃষ্ণ খুবই খুশি হন, ঠিক যেমন আপনি খুবই আবেগপ্রবণ হয়ে পড়েন যদি আপনার শিশু আপনাকে জিজ্ঞাসা করে, “আমার জন্য এমন কোন সেবা আছে কি, যা দিয়ে আমি আপনাকে সেবা করতে পারি?” এবং আপনি হয়তো অবাক হবেন যে আপনার শিশুরা আপনাকে সেবা করার প্রতিদানে কি চাইতে পারে। কিন্তু, ভগবানের ভক্তগণ সরলভাবে কেবল ভগবানকে সেবা করতে চান।

—৩০ জানুয়ারি ২০১৬ খ্রিষ্টাব্দ, শারজাহ্

জানুয়ারী-৩১

কৃষ্ণভাবনার আন্দোলনের গৃহস্থগণ

আমাদের কিছু সংখ্যক গৃহস্থ ভক্ত কর্ম করে অর্থ উপার্জন করে কৃষ্ণভাবনার আন্দোলনে সহযোগিতা করতে চায়, এটিও ভক্তিমূলক সেবা। তাদের কর্মটিও পূজা কারণ তারা তাদের কর্মটিকে অর্থে রূপান্তর করেন এবং অর্থের দ্বারা শ্রীভগবানের পূজা করেন, পাশাপাশি গৃহস্থদের বাড়িতে ভগবানের শ্রীবিগ্রহ রয়েছেন, তারা কিছু ভক্তিবৃক্ষ, নামহট্ট করতে পারেন, তাই এরকম অনেক কার্য রয়েছে বিশেষত যদি স্বামী স্ত্রী উভয়েই ভক্ত হন, এতে বিভিন্ন পারমার্থিক কার্যাবলী সম্পাদন করা খুব সহজ হয়ে যায়।

—৩১ জানুয়ারি ২০১১ খ্রিষ্টাব্দ, সান্ধ্য প্রবচন, কোয়েম্বাটুর, ভারত

সন্ন্যাসী শিষ্য

মুকুন্দ গোস্বামী

অস্ট্রেলিয়া

গোপাল কৃষ্ণ গোস্বামী

ভারত

ভানু স্বামী

চেন্নাই, ভারত

ভক্তি রাঘব স্বামী

ভারত

ভক্তি বিকাশ স্বামী

ভারত

শ্রীমৎ ভক্তি পুরুষোত্তম স্বামী

শ্রীধাম মায়াপুর, ভারত

গৌরাঙ্গ প্রেম স্বামী

শ্রীধাম মায়াপুর, ভারত

ভক্তি সিদ্ধান্ত স্বামী

সুইডেন

ভক্তি ধীর দামোদর স্বামী

আফ্রিকা

ভক্তি বিনোদ স্বামী

কোয়েম্বাটুর, ভারত

ভক্তি নিত্যানন্দ স্বামী

শ্রীধাম মায়াপুর, ভারত

মুরলী কৃষ্ণ স্বামী

ওড়িশা, ভারত

ভক্তি মুকুন্দ স্বামী

মালয়েশিয়া

ভক্তি প্রিয়ম গদাধর স্বামী

রংপুর, বাংলাদশ

ভক্তি বিনয় স্বামী

ঠাকুরগাঁও, বাংলাদেশ

ভক্তি অদ্বৈত নবদ্বীপ স্বামী

সিলেট, বাংলাদশ

ভক্তি অর্জব প্রীতিবর্ধন স্বামী

শ্রীধাম মায়াপুর, ভারত

ভক্তি বিলাস গৌর চন্দ্র স্বামী

শ্রীধাম মায়াপুর, ভারত

ভক্তি বিজয় ভাগবত স্বামী

শ্রীধাম মায়াপুর, ভারত

চৈতন্য চন্দ্র চরণ প্রভু (দীক্ষা-গুরু)

রাশিয়া

যোগাযোগ করুন

ঠিকানা

Jayapataka Swami Archives
২য় তলা, প্রভুপাদ নিবাস, অভয় নগর, মায়াপুর, পশ্চিমবঙ্গ ৭৪১৩১৩, ভারত

কল করুন

ভারত অফিস ফোন: +৯১৭৩৮৪৫২২২১১
ভারত হোয়াটসঅ্যাপ নম্বর: +৯১৯৮০০৯১৫৫৫৩
বাংলাদেশ অফিস এবং হোয়াটসঅ্যাপ নম্বর: +৮৮০১৩০৩৭০৪০৩১

ইমেইল করুন

info@jayapatakaswamibangla.com
publications.victoryflag@gmail.com

খোলা থাকবে

সোমবার - শনিবার