অনলাইন মিডিয়া লিংক

ফেসবুক
  • বাংলা ফেসবুক পেজ
এখনই দেখুন
ইউটিউব
  • বাংলা ইউটিউব চ্যানেল
এখনই দেখুন
অডিও
  • অডিও প্রবচন
এখনই দেখুন
ছবি
  • ছবি
এখনই দেখুন
প্রবচন অনুলিপি
  • প্রবচন অনুলিপি
এখনই দেখুন

জীবন বৃত্তান্ত

শ্রী শ্রীমৎ জয়পতাকা স্বামী গুরুমহারাজ

ওঁ বিষ্ণুপাদ পরমহংস পরিব্রাজকাচার্য অষ্টোত্তরশত শ্রীশ্রীমৎ জয়পতাকা স্বামী ১৯৪৯ খ্রীষ্টাব্দের ৯ই এপ্রিল আমেরিকা যুক্তরাষ্ট্রের উইসকন্‌সিন প্রদেশের মিলৌকি শহরে জন্মগ্রহণ করেন। তিনি যে দিনটিতে জন্মগ্রহণ করেছিলেন সেটি ছিল কামদা একাদশী, যে একাদশীটি ঠিক রাম নবমীর পরেই পালিত হয়।

তাঁর শৈশবকালে তিনি আধ্যাত্মিকতায় অসাধারণ বুদ্ধিমত্তা ও মহান কৌতূহলতা প্রদর্শন করেন। তাঁর বয়স যখন মাত্র এগারো বছর, তাঁর পিতামহের পরামর্শে তিনি ভগবানের দিব্য নাম জপ করার মাধ্যমে নিজেকে এক চর্মরোগের থেকে আরোগ্য করেন।

তাঁর চৌদ্দ বছর বয়সে তিনি সেন্ট্‌ জন্স একাডেমী নামক একটি মহাবিদ্যালয়ে যাওয়ার পূর্ব প্রস্তুতিমূলক বিদ্যালয়ে ভর্তি হন। যেখান থেকে তিনি অনায়াসেই স্নাতক পরীক্ষায় সর্বোচ্চ প্রাপ্ত নম্বর অর্জন করে তাঁর শ্রেণীতে প্রথমস্থান অধিকার করেন। একজন ছাত্রের মধ্যে মহান প্রতিভা রয়েছে সেটি উপলব্ধি করে আমেরিকার বেশ কয়েকটি প্রধান বিশ্ববিদ্যালয় তাকে বৃত্তি প্রদান করেছিল। তিনি ব্রাউন বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তি হন। নবীন ছাত্ররূপে একজন অতিথির নিকট হতে ভগবান বুদ্ধের জীবনদর্শন শ্রবণ করে তাঁর অন্তরাত্মা জাগরিত হয়ে ওঠে এবং জড় শিক্ষার প্রতি আকর্ষণ হারিয়ে ফেলেন। তারপর তিনি পারমার্থিক শিক্ষকের সন্ধান করতে শুরু করেন। যেহেতু পাশ্চাত্যে তিনি কোন সদ্‌গুরুর সন্ধান পেলেন না তাই তিনি ভারতবর্ষে পাড়ি দিতে মনস্থির করলেন।

About

ব্যাসপূজা

ব্যাস পূজার অর্থ

পরম পুরুষােত্তম শ্রীকৃষ্ণের শক্ত্যাবেশ অবতার শ্রীল কৃষ্ণদ্বৈপায়ন ব্যাসদেব । স্বয়ং শ্রীকৃষ্ণের সপ্তবিধ আপন শক্তিরাজির কোন একটি বা একাধিক শক্তির অভিব্যক্ত প্রকাশ করেন যে ভক্তজন, তাঁরই শক্ত্যাবেশ অবতার । শ্রীল ব্যাসদেবের মধ্যে জ্ঞান, শক্তি এতখানি সঞ্চারিত হয়েছিল যে, শ্রীচৈতন্য মহাপ্রভু তাকে ‘সর্বজ্ঞ’ বলে বর্ণনা করেছেন। শ্রীল সনাতন গােস্বামীর কাছে শ্রীচৈতন্য মহাপ্রভু এ বিষয়ে সুপ্রমাণিত করে বলেছিলেন, মুনির বাক্য শাস্ত্র পরমান’- এই মুনির দ্বারা কথিত সবকিছুই বৈদিক প্রমাণসম্মত এবং কেবল তার কথার মাধ্যমেই জড়জাগতিক বদ্ধ জীবাত্মকূল পারমার্থিক জ্ঞান অর্জন করতে পারে । পাঁচ হাজার বছরেরও আগে শ্রীল ব্যাসদেব বর্তমান কলহময় কলিযুগের ভবিষ্যদ্বাণী করেছিলেন যে, কলিযুগে মানবধর্ম, সত্যবাদিতা, শুচিতা, শান্তিভাব, করুণা, স্মৃতি, দেহবল এবং আয়ু দ্রুতগতিতে অবনতির দিকে চলবে এবং মানবজাতি নিম্নস্তরের পশু-পর্যায়ে অধঃপতিত না হওয়া অবধি এমনই চলতে থাকবে।

চরণাশ্রিত শিষ্য

১১৯২৮

হরিনাম দীক্ষিত শিষ্য

৫৪৩৭৪

ব্রাহ্মণ দীক্ষিত শিষ্য

৬৭৬১

সন্ন্যাস দীক্ষিত শিষ্য

২১

** তথ্যসূত্র: জে.পি.এস অফিস, শ্রীধাম মায়াপুর। সর্বশেষ আপডেট ১২ এপ্রিল ২০২২ খ্রিস্টাব্দ। **

অর্জন

কৃষ্ণভাবনাকে সীমাহীনভাবে প্রসারিত করা

নবদ্বীপ-মন্ডলের উন্নয়ন

মায়াপুর ধামের উন্নয়ন

৫০ হাজার দীক্ষিত শিষ্য

ভক্তিবেদান্ত স্বামী চ্যারিটি ট্রাস্ট

TOVP নির্মান

এক মাসে ১০ হাজার বড় গ্রন্থ এবং ১ লক্ষ ছোট গ্রন্থ বিতরণ করা

নাম-হট্ট বিকাশ

বাংলাদেশ ও নেপালে প্রচার করা

মায়াপুরে ২৪ ঘন্টা হরিনাম কীর্তন

প্রতিষ্ঠিত মন্দির এবং বিগ্রহ সমূহ

এখানে সকল তথ্য প্রদান করা হয় নি। যথাক্রমে তা সংগ্রহ করে প্রদান করা হবে।

নামহট্ট প্রচার

যেমনটি আমরা সবাই জানি যে, শ্রীমন্ নিত্যানন্দ প্রভু সুরভী-কুঞ্জ গোদ্রুমদ্বীপে নামহট্ট অনুষ্ঠানের উদ্বোধন করেছিলেন। এবং গৌড়-দেশের প্রতিটি নগর ও গ্রাম দিব্য-পবিত্র নামের দ্বারা প্লাবিত করেছিলেন। তারপরে শ্রীল ভক্তিবিনোদ ঠাকুর, সেই নামহট্ট কর্মসূচীর পুনঃপ্রতিষ্ঠা করেন যা শ্রীমন নিত্যানন্দ প্রভু মহান বীরত্ব, শুদ্ধত্ব ও ভক্তির সহিত সমগ্র বাংলায় ছড়িয়ে দিয়েছিলেন। তিনি শত শত প্রপান্নাশ্রমের সূচনা করেন। নামহট্ট প্রচারটি খুব সুন্দরভাবে পদ্ধতিগতভাবে, কাঠামোগতভাবে সংগঠিত ছিল এবং এটি “শ্রীগোদ্রুম কল্পাটবি” নামে পরিচিত তাঁর গ্রন্থে লিপিবদ্ধ হয়েছে। সময় যতই অতিবাহিত হতে থাকল নামহট্ট প্রচার ধীরে ধীরে অদৃশ্য হয়ে গেল।

১৯৭৭ খ্রিষ্টাব্দে, শ্রীশ্রীমৎ জয়পতাকা স্বামী মহারাজ বাংলায় এবং এর আশেপাশের ১০০০০ লোকজন নিয়ে এক মহতি সংকীর্তন প্রতিবাদের আয়োজন করেছিলেন। এটি ছিল শ্রীমায়াপুর মন্দির আক্রমণের বিরুদ্ধে এক প্রতিবাদ। সংকীর্তন প্রতিবাদের এই বিশাল পদযাত্রাটি আজ থেকে ৫০০ বছর পূর্বে চাঁদ কাজীর বিরুদ্ধে প্রতিবাদের মতো স্মরণ করা হয়ে থাকে।
তার পরে, শ্রীশ্রীমৎ জয়পতাকা স্বামী মহারাজ এক সঙ্কীর্তন সংস্থা গঠন করতে চেয়েছিলেন। এবং অনেক গ্রামবাসী শ্রীল প্রভুপাদের গ্রন্থাবলী পাঠ করার পর পূর্ণকালীন ভক্ত হিসেবে ইস্‌কনে যোগদান করার জন্য তাঁদের ইচ্ছা প্রকাশ করেছিলেন। কিন্তু, মহারাজ বুঝতে পেরেছিলেন যে কীভাবে হাজার হাজার লোককে তাঁদের পরিবার, গবাদি ইত্যাদির সাথে সমন্বয়বিধান করা সম্ভব।

সেই সময়ে, শ্রীশ্রীমৎ ভক্তিচারু স্বামী মহারাজ একখানি গৌড়ীয় পত্রিকা নিয়ে এসেছিলেন যা ১৯৫০ খ্রিষ্টাব্দে মথুরা থেকে কেশব মহারাজের মঠ দ্বারা প্রকাশিত হয়েছিল, যেখানে আমাদের শ্রীল প্রভুপাদ একজন অন্যতম সম্পাদক হিসাবে সেবাকার্য করছিলেন। আর সেখানে তিনি শ্রীল ভক্তিবিনোদ ঠাকুরের শ্রীগোদ্রুম কল্পাটবীর পাঁচটি অধ্যায়ের পুনঃপ্রকাশ করেন এবং সেই পাঁচটি অধ্যায় পাঠ করে এবং আমাদের পূর্বতন আচার্যবর্গের দৃষ্টিভঙ্গি উপলব্ধির মাধ্যমে, তিনি পূর্ব ভারতে নামহট্টের পুনঃপ্রতিষ্ঠা করেছিলেন। আর এটি শ্রীমন্মহাপ্রভুর করুণার সুনামি তৈরি করেছিল এবং প্রতিটি গ্রাম প্লাবিত করে। শ্রীশ্রীমৎ ভক্তি রাঘব স্বামী মহারাজ, শ্রীশ্রীমৎ গৌরাঙ্গ প্রেম স্বামী মহারাজ, শ্রীশ্রীমৎ ভক্তি বিলাস গৌরচন্দ্র স্বামী মহারাজ ও আরও অনেক ভক্ত এই মহান প্রচার সূত্রটি গ্রহণ করেছিলেন এবং বিশ্বজুড়ে বিশুদ্ধ ভক্তি ছড়িয়ে দিয়েছিলেন। এখন পূর্ব ভারতে আড়াই কোটিরও বেশি মানুষের কাছে এই প্রচার পৌঁছে গেছে।
এই নামহট্ট হলো আসলে গৌড়-দেশের আদি সংস্কৃতি, গৌড়ীয় বৈষ্ণবধর্মের সংস্কৃতিকে রক্ষা করেছে এবং আমাদের ভবিষ্যত প্রজন্মকে শ্রীমন্মহাপ্রভুর করুণা বুঝতে সাহায্য করেছে। আর শ্রীশ্রীমৎ জয়পতাকা স্বামী মহারাজ শ্রীল প্রভুপাদের বিজয় পতাকা হয়ে এই নামহট্ট প্রচারের মাধ্যমে বিশ্বকে জয় করছেন, এবং শ্রীল প্রভুপাদ ও পূর্বতন আচার্যবর্গের ইচ্ছা অনুসারে হরেকৃষ্ণ মহামন্ত্রের মহিমা উন্মোচন করছেন।

ভক্তিবেদান্ত স্বামী চ্যারিটি ট্রাস্ট

প্রতিষ্ঠিত সাল : ১৯৭৭ খ্রিষ্টাব্দ

শ্রীল প্রভুপাদ তাঁর সময়ে স্বল্প কিছু ট্রাস্ট গঠন করেছিলেন: BBT (ভক্তিবেদান্ত বুক ট্রাস্ট), MVT (মায়াপুর বৃন্দাবন ট্রাস্ট), BSCT (ভক্তিবেদান্ত স্বামী চ্যারিটি ট্রাস্ট)।
‘ভক্তিবেদান্ত স্বামী চ্যারিটি ট্রাস্ট’ হলো সেই ট্রাস্ট যেটি শ্রীল প্রভুপাদ এই ধরনী থেকে তিরোভাব হওয়ার কয়েক সপ্তাহ আগে ১৯৭৭ খ্রিষ্টাব্দে তৈরি করেছিলেন। শ্রীল ভক্তিসিদ্ধান্ত সরস্বতী ঠাকুর প্রভুপাদ, তাঁর মহান প্রচেষ্টা ও দৃষ্টিভঙ্গি দ্বারা শ্রীল ভক্তিবিনোদ ঠাকুরের পদাঙ্ক অনুসরণ করে শ্রীনবদ্বীপ মণ্ডলকে গড়ে তুলতে শুরু করেছিলেন। আর তিনি নিজেও বহু দিব্য স্থান অনুসন্ধান করেছেন, এবং গৌরমণ্ডল ভূমি অন্বেষণ করেছেন। তিনি গৌড়-মণ্ডল-ভূমিকে ঘিরে বিশাল পরিক্রমার প্রবর্তন করেন।

শ্রীল প্রভুপাদ তাঁর শ্রীচৈতন্যচরিতামৃতের তাৎপর্যে তিনি শ্রীচৈতন্য মহাপ্রভু এবং তাঁর পার্ষদবর্গের শ্রীপাট (লীলা-স্থানসমূহ) সম্বন্ধে যা কিছু অনুবাদ করেছেন তা তিনি শ্রীল ভক্তিসিদ্ধান্ত সরস্বতী ঠাকুর প্রভুপাদের অনুভাষ্য থেকে গ্রহণ করেছেন এটি প্রমাণ করার জন্য যে শ্রীচৈতন্য মহাপ্রভুর লীলাসমূহ কোন পৌরাণিক কাহিনী নয় এবং সেই স্থানগুলি বা শ্রীপাটগুলি এখনও বিদ্যমান। শ্রীল প্রভুপাদ শ্রীশ্রীমৎ জয়পতাকা স্বামী মহারাজকে অনুপ্রাণিত করেছিলেন, যাঁকে এই পারমার্থিক জগতের বিকাশের জন্য সেবা প্রদান করা হয়েছিল, তিনি এই নির্দেশ গ্রহণ করেছিলেন এবং আরও শ্রীপাট অন্বেষণ করা ও তার সাথে সাথে সংকীর্তন, গ্রন্থ বিতরণ, শ্রীবিগ্রহ নির্মাণ, তাঁতশিল্প তৈরি, বন্যা ত্রাণ, জীবনের জন্য খাদ্য (ফুড ফর লাইফ) ইত্যাদি কর্মযজ্ঞ শুরু করেছিলেন। আর শ্রীল প্রভুপাদের সাথে তিনি কয়েকটি শ্রীপাটেও ভ্রমণ করেছেন। এবং শ্রীল প্রভুপাদকে বিভিন্ন শ্রীপাট সম্পর্কে বিবরণ দেন এবং শ্রীপাটগুলির মন্দির রক্ষণাবেক্ষণে সাহায্যের হাত বাড়িয়ে দেন।

১৯৭৭ খ্রিষ্টাব্দে শ্রীল প্রভুপাদ ভক্তিবেদান্ত স্বামী চ্যারিটি ট্রাস্ট (BSCT) গঠন করেন এবং শ্রীশ্রীমৎ জয়পতাকা স্বামী মহারাজকে আজীবন সভাপতি (চেয়ারম্যান) করে গৌর-মণ্ডল ভূমির সীমানা ব্যাখ্যা করেন। এছাড়াও, তিনি পূর্ববর্তী আচার্যবর্গকে সন্তুষ্টি বিধান করার এক উপায় ব্যাখ্যা করেন। শ্রীশ্রীমৎ জয়পতাকা স্বামী মহারাজ এই নির্দেশকে নিজের জীবন ও আত্মা হিসাবে গ্রহণ করেছিলেন, এই শ্রীপাট গুলির সন্ধানে প্রবলভাবে তিনি শতাধিক গ্রামে ভ্রমণ করেছিলেন এবং সেই সমস্ত শ্রীপাটে মন্দির, নাট-মন্দির, রন্ধনশালা ইত্যাদি নির্মাণ করে সেই শ্রীপাটগুলির বিকাশ ঘটিয়েছেন। এইভাবে বিগত ৪৫ বছর ধরে তিনি অক্লান্তভাবে শ্রীল প্রভুপাদ, শ্রীল ভক্তিসিদ্ধান্ত সরস্বতী ঠাকুর প্রভুপাদ, গৌড়ীয় বৈষ্ণবগণ তথা শ্রীচৈতন্য মহাপ্রভুর সেবা করে চলেছেন।

মায়াপুর-বৃন্দাবন ট্রাস্ট

এই ট্রাস্টটি শ্রীল প্রভুপাদ দ্বারা গঠিত হয়েছিল। ‘মায়াপুর-বৃন্দাবন ট্রাস্ট’-কে বিশেষতঃ শ্রীল প্রভুপাদের গুরু দক্ষিণার অর্থের দ্বারা ধরে রেখেছিল। শ্রীল প্রভুপাদ এই অর্থকে চারই-বিগ্রহের সেবায় ব্যবহার করার নির্দেশ দেন, বিশেষ করে যখন তাঁদের সেবার প্রয়োজন হয়, যথা: শ্রীমায়াপুর ধামে শ্রীশ্রীরাধা-মাধব, শ্রীবৃন্দাবন ধামে শ্রীশ্রী রাধা-শ্যামসুন্দর, হায়দ্রাবাদে শ্রীশ্রী রাধামদন-মোহন এবং মুম্বাইয়ের জুহুতে শ্রীশ্রী রাধা-রাসবিহারী, এই চারি শ্রীবিগ্রহগণের সেবায়। তবে শ্রীল প্রভুপাদের শিষ্যগণ তাঁদের ঐকান্তিক সেবা দ্বারা এই সমস্ত মন্দিরগুলিকে অত্যন্ত উৎকৃষ্ট মানের ও ঐশ্বর্যপূর্ণ বিগ্রহ সেবার্চনে রেখেছেন।

শ্রীবিগ্রহের সেবার্চন ব্যতিরেকেও, MVT ট্রাস্টের অর্থসমূহ এই সমস্ত মন্দিরগুলির উন্নয়নে ব্যবহৃত হয়। আর শ্রীশ্রীমৎ জয়পতাকা স্বামী মহারাজ হচ্ছেন এই ‘এমভিটি ট্রাস্টের’ অন্যতম একজন ট্রাস্টি, তিনি শ্রীশ্রীমৎ গোপাল কৃষ্ণ গোস্বামী মহারাজের সাথে একযোগে সেবা করছেন।

সারস্বত গৌড়ীয় বৈষ্ণব অ্যাসোসিয়েশন (এস জি ভি এ)

প্রতিষ্ঠিত সাল :

শ্রীল প্রভুপাদ, তাঁর পারমার্থিক গুরুদেব শ্রীল ভক্তিসিদ্ধান্ত সরস্বতী ঠাকুর প্রভুপাদের আদেশ অনুসারে কার্য করা এবং শ্রীচৈতন্য মহাপ্রভুর বাণীকে ছড়িয়ে দেওয়ার জন্য তাঁর গুরু-ভ্রাতাদের একত্রিত করার অনেক চেষ্টা করেছিলেন। তবে তাঁর ইচ্ছামত তাঁর প্রচেষ্টা সফল হয়নি, কিন্তু তারপরও শ্রীল প্রভুপাদের প্রচারের প্রচেষ্টা এবং তাঁর ফল তাঁর গুরুভ্রাতাগণের দ্বারা খুব প্রশংসিত হয়েছিল, কেউ কেউ আবার তাঁর প্রশংসা করছিলেন না, তবে তাঁদের অধিকাংশই সারা বিশ্বে তাঁর প্রচারে খুব খুশি ছিলেন।

১৯৭৭ খ্রিষ্টাব্দে, এই জগৎ ছেড়ে যাওয়ার পূর্বে, শ্রীল প্রভুপাদ ‘ভক্তিবেদান্ত স্বামী চ্যারিটি ট্রাস্টের’ অন্যতম প্রধান লক্ষ্য হিসাবে তাঁর ইচ্ছাকে অন্তর্ভুক্ত করেছিলেন। আর তা হলো শ্রীল ভক্তিসিদ্ধান্ত সরস্বতী ঠাকুরের অনুগামীগণকে একত্রিত করা।

শ্রীল প্রভুপাদের এই অভীষ্ট পূরণ করার জন্য শ্রীশ্রীমৎ জয়পতাকা স্বামী মহারাজ এই মহান কার্যটি তাঁর প্রাথমিক কর্তব্য হিসাবে গ্রহণ করেছিলেন। এবং সারস্বত গৌড়ীয় বৈষ্ণব সভা (সঙ্গ) গঠন করেন। তাঁর প্রচেষ্টা ও সম্পর্কের দ্বারা, তিনি শ্রীল ভক্তিসিদ্ধান্ত সরস্বতী ঠাকুর প্রভুপাদের বহু শিষ্যগণের হৃদয় জয় করেছেন। আর তাঁরা “বৈচিত্র্যের মধ্যে ঐক্যতা” নীতি গ্রহণ করেছিলেন। এখনও পর্যন্ত শ্রীশ্রীমৎ জয়পতাকা স্বামী মহারাজ সমস্ত মঠকে একত্রিত করার প্রচেষ্টা করছেন এবং বৃহত্তর ও ব্যাপক অর্থে গুরু-পরম্পরা ও শ্রীনবদ্বীপ ধামের সেবা করার চেষ্টা করছেন।

ইস্‌কন শ্রীরঙ্গম

প্রতিষ্ঠিত সাল :

যেমনটি আমরা সকলেই জানি, শ্রীরঙ্গম হলো শ্রীসম্প্রদায়ের প্রধান কার্যালয়। শ্রীপাদ রামানুজ আচার্যের অনুগামীগণ, যাঁরা শ্রীবৈষ্ণব নামে পরিচিত, এই স্থানটিকে দিব্য ধাম ভু-লোক বৈকুণ্ঠ হিসাবে পালন করে থাকেন। এটি পবিত্র কাবেরী নদী (কৃতমালা) দ্বারা বেষ্টিত একটি দ্বীপ বিশেষ। এই দিব্যময় ভূমি থেকেই শ্রীল গোপাল ভট্ট গোস্বামী শ্রীমন্মহাপ্রভুর নিকট কৃপা লাভ করেছিলেন। শ্রীচৈতন্য মহাপ্রভু তাঁর দক্ষিণ ভারত সফরের সময় এখানে চার মাস (চাতুর্মাস) অতিবাহিত করেছিলেন। আমাদের গৌড়ীয় বৈষ্ণব আচার্যবর্গ এখানে সময় অতিবাহিত করেন এবং বহু শতাব্দী ধরে গৌড়ীয় ধর্ম প্রচার করেন।

১৯৯০-এর দশকের গোড়ার দিকে শ্রীশ্রীমৎ জয়পতাকা স্বামী মহারাজের শিষ্য রুকমিহা দাস, একজন সংকীর্তন ভক্ত শ্রীরঙ্গমের পদ্মাবতী কল্যাণ মন্ডপে একটি কেন্দ্র প্রবর্তণ করেছিলেন। ২০০০খ্রিষ্টাব্দে তাঁরা তাঁদের নিজস্ব ভূমি লাভ করেন এবং শ্রীশ্রীমৎ জয়পতাকা স্বামী মহারাজ শ্রীল প্রভুপাদ পূজা করে তা উদ্বোধন করেন। ২০০১ খ্রিষ্টাব্দে তাঁরা তাঁদের নিজস্ব ভূমিতে একটি ছোট্ট কুঁড়েঘর দিয়ে অকিঞ্চনভাবে তার প্রারম্ভ করেন। ক্রমে ক্রমে বছরের পর বছর ধরে শ্রীরঙ্গমের চতুর্দিকে প্রচারের পর তা ছড়িয়ে পড়ে এবং বহু ভক্ত শ্রীশ্রীমৎ জয়পতাকা স্বামী মহারাজের নিকট হতে দীক্ষা গ্রহণ করেন।

দক্ষিণ ভারত সাফারি কর্মসূচী চলাকালীন শ্রীশ্রীমৎ জয়পতাকা স্বামী মহারাজ বিদেশ থেকে শত শত ভক্তকে নিয়ে আসতেন এবং শ্রীরঙ্গম পরিদর্শনে যেতেন। সুবিখ্যাত এই শ্রীরঙ্গনাথ শ্রীবিগ্রহ যাঁকে ভগবান শ্রীরামচন্দ্র স্বয়ং পূজা করেছিলেন।
সেখানে, শ্রীশ্রীমৎ জয়পতাকা স্বামী মহারাজের বেশ কয়েকজন শিষ্য এই কেন্দ্রের উন্নয়নে তাঁদের সময় এবং শক্তি উৎসর্গ করেন, তাঁদের মধ্যে কয়েকজনের নাম হলো: শ্রীপাদ রথীশা দাস, বনমালি গোপাল দাস, রত্নবাহু গৌরাঙ্গ দাস (যিনি এই কেন্দ্রের জন্য জমি দান করেছিলেন), রঙ্গরাজ কৃষ্ণ দাস, অশোক গোবিন্দ দাস, দয়াল গোবিন্দ দাস, বর্তমানে নন্দ পুত্র দাস এই কেন্দ্রের তত্ত্বাবধান করছেন। অধিষ্ঠাতা শ্রীবিগ্রহগণ হলেন ‘শ্রীশ্রী জগন্নাথ, বলদেব, সুভদ্রা’ এবং ‘সুদর্শন’, ‘শ্রীশ্রী নিতাই-গৌরাঙ্গ’, ‘শ্রীশ্রী লক্ষ্মী-নরসিংহ’ এবং ‘শ্রীল প্রভুপাদ’। শ্রীশ্রীমৎ জয়পতাকা স্বামী মহারাজের নির্দেশ অনুসারে এখন SIHE (শ্রীরঙ্গম ইন্‌স্টিটিউট অফ্‌ হায়ার এডুকেশন) তামিল ভাষায় ভক্তি-শাস্ত্রী পাঠ্যক্রম শেখানো শুরু করেছে। আর এখানে ইস্‌কনের সমস্ত প্রধান প্রধান উৎসবগুলি অত্যন্ত জাঁকজমকপূর্ণভাবে পালিত হয়।

ম্যাগাজিন

প্রশ্ন ও উত্তর

যখন তুমি গুরু এবং কৃষ্ণের সেবায় নিয়োজিত থাকবে তখন স্বাভাবিকভাবেই তুমি গুরু এবং কৃষ্ণের সান্নিধ্য থাকবে এবং এটি তুমি অনুভব করতে পারবে। সুতরাং আমরা সরাসরি গুরুদেব অথবা তার বাণীর সেবা করার চেষ্টা করি। এই প্রকারে আমরা যুক্ত থাকতে পারি।

অবশ্যই, আমাদের কৃষ্ণের আশ্রয় নেওয়া উচিত এবং নিজেদেরকে বাঁচানোর চেষ্টা করার জন্য আমাদের বুদ্ধিমত্তা ব্যবহার করা উচিত। বাসুদেবের মতো, কংস যখন তার স্ত্রী দেবকীকে হত্যা করতে চেয়েছিলেন, তখন তিনি তাকে বাঁচানোর জন্য নানাভাবে চেষ্টা করেছিলেন। অবশেষে, তিনি যখন কংসকে সমস্ত সন্তান দেবেন বলে বললেন, তিনি মেনে নিলেন।

শিক্ষাষ্টকের তৃতীয় শ্লোকটি মেনে চলার চেষ্টা করুন- নিজের জন্য কোন সম্মানের প্রত্যাশা ব্যতিরেকে সবাইকে সম্মান প্রদান করুন। বোধ হয় আপনি সবাইকে সম্মান প্রদর্শন করছেন না, যা করা আমাদের কর্তব্য। যখন আমরা অবহেলা করি তখন আমাদেরকে ভুগতে হবে। আমাদের উচিত বৈষ্ণবদের প্রশংসা করা এবং এটি আমাদের সাফল্যের গোপন চাবিকাঠি।

আমাদের পক্ষে বোঝা শক্ত কখন আমরা ভগবদ্ধামে ফিরে যেতে পারবো, এবং এটি শ্রীকৃষ্ণের দ্বারা নির্ধারিত হয় এবং আমরা তার পূর্বে যেতে পারি না। তো, আমরা কৃষ্ণভাবনামৃত অনুশীলন করার চেষ্টা করি। তখন স্বাভাবিক ভাবেই আমরা শ্রীকৃষ্ণের ব্যাপারে চিন্তা করি, কারণ আমরা জানি না কতক্ষন বেঁচে থাকতে হবে সুতরাং আমাদের সর্বদাই কৃষ্ণের নিকট ফিরে যাওয়ার জন্য প্রস্তুত থাকতে হবে।

অধ্যায়ন করে স্বাভাবিভাবেই চিনময় গুণাবলী অর্জন করা উচিত এবং অধ্যায়নের মাধ্যমে স্বাভাবিকভাবেই সে বিভিন্ন আধ্যাত্বিক ব্যক্তিত্বের সঙ্গলাভের সুযোগ পায়, সুতরাং আমরা ঐ সমস্ত গুণাবলী অর্জনের চেষ্টা করি। এবং অন্তিমে আমরা অনেক কিছু অর্জন করতে পারি। অন্যান্য যে সমস্ত গুণাবলী রয়েছে যেমন ধৈর্য্য, সহ্যশক্তি সাধারণত গ্রন্থ অধ্যয়নের দ্বারা লাভ হয়।

বেশ, যদি আমরা মানসে মন্দির অথবা ধামে বাস করি এইভাবে ইন্টারনেটে আমি বিভিন্ন স্থান দর্শন করি। কিন্তু আমি অবশ্যই নিয়মিত মায়াপুরের মঙ্গলারতি তে যোগদান করি।এভাবে ইউটিউব, ফেসবুক, মায়াপুর টিভির মাধ্যমে আপনি অনেক মন্দিরের দর্শন লাভ করতে পারবেন আমরা এইভাবে মানসে পবিত্র ধাম দর্শন করতে পারি।

হ্যা, আসলে দুই প্রকারের ভক্ত রয়েছে, ভজনানন্দী এবং গোষ্ঠানন্দী। ভজনানন্দীরা তাদের ব্যক্তিগত মুক্তিলাভ কে জীবনের লক্ষ্য বলে গণ্য করে। গোষ্ঠানন্দীরা অন্যান্য ভক্তদেরকে সঙ্গে নিয়ে ভগবদ্ধামে ফিরে যেতে চায়। আমাদের পরম্পরা টি হল গোষ্ঠানন্দী পরম্পরা। আমরা কৃষ্ণভক্তি অনুশীলন করি এবং একইসঙ্গে ভক্ত সংখ্যা বৃদ্ধির জন্য চেষ্টা করি সুতরাং আমাদের কাজ হল কৃষ্ণ ভক্তি অনুশীলনের সাথে সাথে প্রচারে অংশগ্রহণ করা।

শ্রীল প্রভুপাদ বলেছেন যে দীক্ষিত বা অদীক্ষিত যে কেউ ভক্তিশাস্ত্রী পাঠক্রমে অংশ নিতে পারবে। কিন্তু কেউ যদি সন্ন্যাস বা ব্রাহ্মণ দীক্ষা নিতে চায় বা গুরু হওয়ার জন্য তার কিছু আচার-ব্যবহার পর্যবেক্ষণ করতে হয়। শিক্ষামূলক পাঠক্রমে যে কেউ অংশ নিতে পারে।

আমাদের বারোটির সবকটি গুণাবলী অর্জন করার জন্য চেষ্টা করা উচিত। যদি কোন ক্ষেত্রে আমাদের অসুবিধা হয় তাহলে আমাদের জ্যেষ্ঠ গুরুভ্রাতা অথবা গুরুদেবের শরণাপন্ন হওয়া উচিৎ । দীক্ষা গ্রহণের অর্থ হলো নবজন্ম গ্রহণ করা। জন্মের পরে অন্যান্য বিষয়ে অংশগ্রহণের মাধ্যমে সেগুলি গড়ে তোলা যায়। এমনটি নয় যে জন্ম থেকেই আপনি সমস্ত গুণাবলী লাভ করবেন, অনুশীলনের মাধ্যমে আপনাকে সেগুলি অর্জন করতে হবে।

দীক্ষা আমাদের আধ্যাত্বিক জীবনের সূচনা মাত্র। আমাদের এমনটি ভাবা উচিত নয় যে দীক্ষার পরে সে খুব উচ্চ স্তরে পৌঁছে গেছে। দীক্ষাকে বলা হয় পারমার্থিক জন্মগ্রহণ। যদি আপনি অজন্মা থেকে যেতে চান তাহলে আপনার দীক্ষা গ্রহণের দরকার নেই। কিন্তু যদি আপনি জন্ম লাভ করতে চান তাহলে দীক্ষা গ্রহণ করা গুরুত্বপূর্ণ। এটি আপনাকে গুরু পরম্পরার সঙ্গে সংযুক্ত করে। এটি আপনাকে দিক্ষা গুরুর সাথেও যুক্ত করে। দীক্ষার পূর্বে সবকিছু কেবল অনুশীলন মাত্র। দীক্ষার সময় আপনি কিছু প্রতিশ্রুতি গ্রহণ করেন এবং সেগুলি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। আপনি কমপক্ষে ১৬ মালা জপ, চার নিয়ম পালন, এবং আমার শিষ্যদেরকে আমি আরো একটি প্রতিশ্রুতি গ্রহণ করতে বলি - শ্রীল প্রভুপাদের নির্দেশসমূহ পালনে আমকে সহযোগিতা করা। সাধারনত এটুকুই যথেষ্ট। কিন্তু মাঝে মাঝে আমি কোন কোন ভক্তকে কিছু বিশেষ উপদেশ বা নির্দেশ প্রদান করে থাকি। তাদের সেটি পূরণ করা উচিৎ।

সাফারি

দৈনিক উক্তি

সেপ্টেম্বর- ০১

কৃষ্ণই পরম সত্য

আমরা কৃষ্ণকে পরম সত্য হিসেবে বিবেচনা করি, কিন্তু হিন্দুদের ধারণা সকল দেবতারা সমান—এটা বৈষ্ণবীয় দর্শন নয়। আমরা সকল দেব-দেবীদের সম্মান করি এবং তাঁদের অবস্থানের উপর ভিত্তি করে কোন মহান ভক্ত বা অবতার হিসেবে তাঁদের প্রণাম করি। কিন্তু আমরা তাদের রাম, কৃষ্ণ অথবা বিষ্ণুর সমপর্যায়ভুক্ত হিসেবে দেখি না। আমরা রামানুজাচার্য, মধ্বাচার্য এবং অন্যান্য বৈষ্ণব আচার্যদের অনুসরণ করি।

—০১ সেপ্টেম্বর ১৯৮৩ খ্রিস্টাব্দ, রবিবাসরীয় ভোজ, আটলান্টা, আমেরিকা।

সেপ্টেম্বর-০২

পূর্ণরূপে ভগবৎপ্রেম গ্রহণ ও বিতরণ করুন

ভগবান শ্রীকৃষ্ণ বানরদেরকে মাখন বিলিয়ে দিয়েছিলেন, গৌর-নিতাই ভগবৎপ্রেমের ভাণ্ডার লুট করে অকাতরে ভগবৎপ্রেম বিতরণ করেছিলেন। আমি আশা করি আপনারা পূর্ণরূপে ভগবৎপ্রেম গ্রহণ করবেন এবং তা বিতরণ করবেন।

—০২ সেপ্টেম্বর ২০১২ খ্রিস্টাব্দ, দীক্ষা প্রবচন, কুয়ালালামপুর, মালেশিয়া।

সেপ্টেম্বর-০৩

যেকোন মুহূর্তে কৃষ্ণ সবকিছু ছিনিয়ে নিতে পারেন

মায়া, বহিরঙ্গা শক্তি, জড়া শক্তির প্রভাবে আমরা ভাবতে শুরু করি এটি আমার, সে আমার স্ত্রী, সে আমার মা, এই আমার পুত্র, এই আমার কন্যা এবং তখন আমরা আমাদের সম্পত্তির (তথাকথিত সম্পত্তির) সেবা করতে শুরু করি। এরপর আমরা ভুলে যাই যে আমাদের সবকিছুই কৃষ্ণের কাছ থেকে ধারকৃত। যেকোন মুহূর্তে তিনি আমাদেরকে বা সে সবকিছু ছিনিয়ে নিতে পারেন।

—০৩ সেপ্টেম্বর ১৯৮২ খ্রিস্টাব্দ, মুরারি সেবক ফার্ম, টিনেস, আমেরিকা।

সেপ্টেম্বর-০৪

কোন পাপ কর্ম করবেন না

কোন পাপ কর্ম করবেন না। যমরাজ সবই দেখছেন এবং কৃষ্ণও সব দেখছেন। মন খারাপ কিছু চাইলেও বুদ্ধি দ্বারা তাকে নিবৃত্ত রাখতে হবে। না, আমি তা করব না।

—০৪ সেপ্টেম্বর ২০০৫ খ্রিস্টাব্দ, বল্লভ বিদ্যানগর, ভারত

সেপ্টেম্বর-০৫

মানব জীবনের ব্যবহার

অনুগ্রহ করে এই মূল্যবান মানব জীবনকে যতটা সম্ভব কৃষ্ণভাবনামৃতে ব্যবহার করুন।

—০৫ সেপ্টেম্বর ২০১৫ খ্রিস্টাব্দ,জন্মাষ্টমী প্রবচন, কুয়ালালামপুর, মালয়েশিয়া।

সেপ্টেম্বর-০৬

পারমার্থিক গুরু কৃষ্ণের প্রতিনিধি

প্রভুপাদ, সর্বপ্রথম যে বিষয়টি বলেছিলেন, “হয়তো তুমি ভাবছো একজন ব্যক্তি কেন এত পূজিত হচ্ছেন?” পারমার্থিক গুরু হচ্ছেন শ্রীকৃষ্ণের প্রতিনিধি সুতরাং তিনি শ্রীকৃষ্ণের পর্যায়ে সম্মানিত হন। তারপর প্রভুপাদ বলেছিলেন যে, কিন্তু যদি পারমার্থিক গুরু এটা মনে করেন যে, তিনি হচ্ছেন ভগবান, তিনি হচ্ছেন শ্রীকৃষ্ণ, তাহলে তিনি ভগবান নন, তিনি GOD নন, তিনি হচ্ছেন DOG, তিনি কুকুর।

—০৬ সেপ্টেম্বর ১৯৮১ খ্রিস্টাব্দ, বোস্টন, আমেরিকা।

সেপ্টেম্বর-০৭

কৃষ্ণের প্রতি আসক্তি শক্তি

প্রকৃতপক্ষে, এই সকল ভক্তরা শ্রীকৃষ্ণের উপস্থিতি অথবা বিরহে এতটা নিমগ্ন যে, এই জড়জগতের সকল দুঃখ-দুর্দশার প্রতি তারা সচেতন অথবা অবগত নয়। এটাই উৎকর্ষের মাত্রা যে, যখন কারও শ্রীকৃষ্ণের প্রতি কিছুটা আসক্তি উৎপন্ন হয়, তিনি শ্রীকৃষ্ণকে ভুলতে পারেন না এবং সেই ব্যক্তির জন্য এই জড়-জাগতিক সুখ এবং দুঃখ কোন গুরুত্বপূর্ণ বিষয় নয়। শ্রীকৃষ্ণের প্রতি আসক্তি এমনই গুরুত্বপূর্ণ, কেননা প্রকৃতপক্ষে এই জড়জগত পতিবিম্ববৈকি আর কিছুই নয়।

—০৭ সেপ্টেম্বর ১৯৮১ খ্রিস্টাব্দ, রাধাঅষ্টমী প্রবচন, লন্ডন, ইংল্যাণ্ড।

সেপ্টেম্বর-০৮

গুরু-কৃষ্ণের কৃপাই একমাত্র প্রয়োজন

বেদের গুহ্যতত্ত্ব সেই সকল ভক্তের নিকট প্রকাশিত হয়, গুরু-কৃষ্ণের প্রতি যাঁদের দৃঢ় বিশ্বাস রয়েছে। তাই গুরু এবং কৃষ্ণের কৃপা ব্যতীত কিভাবে আপনি ভক্তিমূলক সেবার প্রয়োজনীয় বিষয়বস্তু উদ্‌ঘাটন করবেন ?

—০৮ সেপ্টেম্বর ১৯৯২ খ্রিস্টাব্দ, প্রবচন শ্রীমদ্ভাগবত ৮/১৮/১, বামনদেবের দিব্য লীলা, শ্রীধাম মায়াপুর, ভারত।

সেপ্টেম্বর-০৯

জপের মাধ্যমে একজন নিজেকে সুরক্ষিত বোধ করবে

এই পৃথিবীতে প্রত্যেকেই ভয়ে ভীত, কেননা কেউই তাকে সুরক্ষা দিচ্ছে না। কিন্তু প্রত্যেক ভক্তই ভয়হীন, কেননা কৃষ্ণ ভক্তকে সুরক্ষা দেন এবং ভক্ত সেই সুরক্ষা অনুভব করতে পারে। অনেকে বলতে পারে, “কী এই সুরক্ষা? কিভাবে আমি এসব কিছুতে বিশ্বাস করতে পারি?” যদি কেউ ‘হরেকৃষ্ণ’ মহামন্ত্র জপ করে, তাহলে তিনি এই সকল সমূহ ভয়াবহ বিপদ থেকে রক্ষা পেতে পারেন এবং জপ করার মাধ্যমে তিনি সেই সুরক্ষা অনুভব করতে পারেন। তার জীবনের সকল বাধা-বিপত্তি এই ‘হরেকৃষ্ণ’ মহামন্ত্র জপের মাধ্যমে দূরীভূত হয়ে যায়।

—০৯ সেপ্টেম্বর ১৯৭৯ খ্রিস্টাব্দ, লস এঞ্জেলস, আমেরিকা

সেপ্টেম্বর-১০

ভগবৎ প্রেমের পরিপূর্তিার পূর্ণ আস্বাদন

ভগবৎ প্রেমের পরিপূর্তিার পূর্ণ আস্বাদন ভগবান-যেহেতু তিনি সার্বভৌম স্বভাবতই তিনি তাঁর ভক্তদের ভালবাসেন। স্বভাবতই তিনি তাঁর পরিচারকদের ভালবাসেন এবং তাদের প্রতিপালন করেন এবং প্রতিরক্ষা করেন এবং তাদের প্রতি তার ভালবাসা অনেক অনেক বিস্তৃত করেন। সুতরাং কেউ যখন সম্পূর্ণরূপে সংকীর্তনে নিমগ্ন থাকে, অনেক ভক্তের সাথে গভীর সংকীর্তন ধ্যানের মধ্যস্থলে সংকীর্তন যজ্ঞে গভীরভাবে নিমগ্ন থেকে সম্পূর্ণরূপে আত্নসমর্পণ করেন তখন তিনি ভগবানের ভালবাসার পরিপূর্ণতার সম্পূর্ণ আস্বাদন কেমন তার প্রকৃত স্বাদ আস্বাদন করতে পারবেন।

—১০ সেপ্টেম্বর ১৯৭৯ খ্রিস্টাব্দ,পঞ্চতত্ত্ব উপলব্ধি, পর্ব-২, লজ এঞ্জেলস, আমেরিকা

সেপ্টেম্বর-১১

সংকীর্তন আন্দোলন প্রসারে ত্যাগের আবশ্যকতা

মাঝে মাঝে কিছু ব্যক্তির বিশেষ করে পরিবার, বন্ধু-বান্ধব থেকে বিচ্ছেদের মাধ্যমে অসুবিধা পোহানো এবং বিশেষ আদেশ, মহান উদ্দেশ্য হাতে নেওয়া জরুরী। অবশ্যই শ্রীচৈতন্য মহাপ্রভুই শ্রীকৃষ্ণ স্বয়ং। তিনি এটা করেছিলেন। আমাদের কথা আর কি বলার আছে। মাঝে মাঝে আমাদেরকে মহান ত্যাগ স্বীকার করতে হয়, আমরা যে পরিস্থিতিতেই থাকি না কেন, যখন আমরা সেই ত্যাগের দৃষ্টিতে কোন কিছু দেখি প্রকৃতপক্ষে তখনই আমরা নিজেদের সেবা প্রবৃত্তিকে সংকীর্তন আন্দোলন সম্প্রসারণের মাধ্যমে বৃদ্ধি করতে পারি।

—১১ সেপ্টেম্বর ১৯৭৯ খ্রিস্টাব্দ,আত্নসমর্পণ প্রক্রিয়া, অমৃত সারতত্ত্ব, লসএঞ্জেলস, আমেরিকা

সেপ্টেম্বর-১২

দায়বদ্ধভাবে করুণা ভরে সবার কাছে পৌঁছাতে হবে

দয়ার্দ্র হও। পতিত আত্মাদের সাহায্য কর। দায়িত্ব নাও, কেননা আর কেউই দায়িত্ব নিচ্ছে না। শ্রীচৈতন্য মহাপ্রভুর ইচ্ছা ছিল যে, প্রত্যেকেই এই কৃপা পাবে। সুতরাং, ভক্তদের মধ্যে এই করুণা ভাব থাকতে হবে। দায়বদ্ধভাবে করুণা ভরে সবার কাছে পৌঁছাতে হবে।

—১২ সেপ্টেম্বর ১৯৮১ খ্রিস্টাব্দ, প্রবচন, মিয়ামি, ফ্লোরিডা

সেপ্টেম্বর-১৩

ভক্তরা কৃষ্ণের চেয়েও অধিক সুখী

পারমার্থিক জগতে মাধুর্যভাব বিনিময় হয়, শ্রীকৃষ্ণ দেখেন যে তাঁর নিজের চেয়ে ভক্তদের তাঁর প্রতি অধিক অনুরক্তি, অধিক সুখ এবং পরমানন্দ বিরাজ করে। তিনি অনেক সুখী, কিন্তু ভক্তরা অধিক সুখী। সুতরাং এটাই চৈতন্য মহাপ্রভুর আবির্ভাবের অন্তর্নিহিত গোপনীয় কার। ভক্তের মত হওয়ার অভিজ্ঞতা অর্জন এবং কেন ভক্ত, কৃষ্ণের থেকেও পরম সুখ অনুভব করে তা উপলব্ধি এবং শ্রীকৃষ্ণ শুধু শ্রীমতি রাধারাণীর ভাব এবং অঙ্গকান্তি গ্রহণের মাধ্যমে সেই অভিজ্ঞতা অর্জন করতে পারেন।

—১৩ সেপ্টেম্বর ২০১৩ খ্রিস্টাব্দ, শ্রীমতি রাধারাণীর মহিমা, শ্রীধাম মায়াপুর, ভারত

সেপ্টেম্বর-১৪

দীক্ষা প্রক্রিয়া

দীক্ষার প্রক্রিয়া হল এমন একটি প্রক্রিয়া যেখানে একজন প্রতিশ্রুতিবদ্ধ হয় যে এখন থেকে আমি এমনভাবে আচরণ করব না অথবা আমি সাধারণভাবে কোন পশুর মত জড়জগতের আচরণ করতে চেষ্ট করব না বরং আমি একটা জড় শরীরে আবদ্ধ একটা আধ্যাত্মিক আত্মা যে কিনা আধ্যাত্মিক উন্নতির জন্য আচরণ করব। আধ্যাত্মিক উন্নতি পারমার্থিক গুরুদেব দ্বারা পরিদর্শিত এবং পরিচালিত হয়। যদি আমরা জানতে না পারি, আমাদের কী করা উচিত এবং কী করা উচিত নয়, তখন আমরা গুরুদেবের কাছে জিজ্ঞেস করতে পারি এবং তিনি আমাদের নির্দেশনা দিবেন এবং এটাই করা সঠিক।”

—১৪ সেপ্টেম্বর ১৯৮৬ খ্রিস্টাব্দ, নব পানিহাটি ধাম, আটলান্টা, জর্জিয়া

সেপ্টেম্বর-১৫

উন্মুক্ত রহস্য

আমরা সাধারণভাবে পরম্পরা অনুসারে, পূর্বর্তন আচার্যদের নিদের্শনা পালন করতে চেষ্টা করি। প্রকৃতপক্ষে, প্রভুপাদ প্রকাশ করেছেন যে কৃষ্ণভাবনামৃতে অগ্রসর হওয়ার একটা বৃহৎ রহস্য আছে। রহস্য হচ্ছে যে, একজনের উচিত প্রতিনিয়ত পারমার্থিক গুরুদেব এবং পূর্বতন আচার্যদের কাছে শুদ্ধ ভক্তিময় কার্যে অগ্রসর হওয়ার জন্য কৃপা প্রার্থনা করা। একজনের প্রার্থনা করা উচিত, তার মহান বৈষ্ণবদের কৃপা চাওয়া উচিত। এটাই হল উন্মুক্ত রহস্য।

—১৫ সেপ্টেম্বর ১৯৭৯ খ্রিস্টাব্দ, লস এঞ্জেলস, আমেরিকা

সেপ্টেম্বর-১৬

উন্মুক্ত রহস্য

প্রত্যেকেই বলছে আমরা কৃষ্ণভক্ত। কিন্তু কৃষ্ণভক্তির গভীরে প্রকৃতই যেতে হলে কৃষ্ণের সর্বাপেক্ষা কৃপাময় রূপ শ্রীচৈতন্য মহাপ্রভুর কৃপা তোমরা প্রয়োজন।

—১৬ সেপ্টেম্বর ১৯৮৬ খ্রিস্টাব্দ,প্রবচন, চৈ. চ. আ.-১/১৯, আটলান্টা

সেপ্টেম্বর-১৭

দীক্ষা কী?

তিনি (প্রভুপাদ) ব্যাখ্যা করলেন-দীক্ষা কী, তুমি তা জানতে চাও? এর অর্থ হচ্ছে কোন স্বাধীন ইচ্ছা থাকবে না, পারমার্থিক গুরুদেব যা বলবেন তোমাকে তাই করতে হবে, এটাই হচ্ছে দীক্ষা। পারমার্থিক গুরুদেব হচ্ছেন শ্রীকৃষ্ণের স্বরূপ, তিনি ভগবানের প্রতিনিধি। তাঁকে এমনভাবে সম্মান দেখানো উচিত যেমনটা ভগবান স্বয়ং উপস্থিত হলে সম্মান দেখানো হয়।

—১৭ সেপ্টেম্বর ১৯৭৯ খ্রিস্টাব্দ, লস এঞ্জেলস, আমেরিকা

সেপ্টেম্বর-১৮

কিভাবে একটি শান্তিময় বিশ্ব পেতে পারি?

প্রকৃতপক্ষে সমগ্র বিশ্ব যদি এই মনোভাব ব্যক্ত করে যে, প্রকৃত অধিপতি কোন স্বতন্ত্র রাষ্ট্রের স্বার্থে নয়, কিন্তু তিনি হলেন পরম ঈশ্বর এবং প্রত্যেকে যদি এটি স্বীকার করে যে তারা সবাই প্রকৃতপক্ষে পরম ঈশ্বরের দাস এবং সেই জন্য অন্য সকল জীবকূলের একই রকম আধ্যাত্মিক গুণ রয়েছে এবং একই পরম ঈশ্বরের অংশ বিশেষের উদ্দেশ্যে কাজ করে, তখনই তোমরা একটা শান্তিময় বিশ্ব পেতে পার। তখনই প্রকৃত আধ্যাত্মিক জ্ঞান এবং উপলব্ধির ভিত্তিতে ঐক্যতা আনয়ন সম্ভব।

—১৮ সেপ্টেম্বর ১৯৮৩ খ্রিস্টাব্দ, রবিবাসরীয় ভোজ, আটলান্ট, আমেরিকা

সেপ্টেম্বর-১৯

কিভাবে কৃষ্ণের কৃপা পাওয়া যায়

প্রকৃতপক্ষে কেউ যদি কৃষ্ণকে পেতে চায়, তাহলে প্রথমে তাঁকে পারমার্থিক গুরুদেব দ্বারা ভগবানের শক্তির করুণা পেতে হবে অথবা কৃষ্ণের পার্ষদদের দ্বারা (যিনি অবশ্যই পারমার্থিক গুরুদেবের একজন)। পারমার্থিক গুরুদেবের করুণা প্রাপ্ত হলে অন্যান্য পার্ষদদের করুণাও পাওয়া যাবে।।

—১৯ সেপ্টেম্বর ১৯৭৯ খ্রিস্টাব্দ,শরণাগতির সর্বোত্তম নীতি, লস এঞ্জেলস, আমেরিকা

সেপ্টেম্বর-২০

শ্রীকৃষ্ণের চরণাশ্রয় গ্রহনকারীই প্রকৃত বিজেতা

কেউ যদি ভগবান শ্রীকৃষ্ণের আশ্রয় গ্রহণ করে, তাহলে সেই ব্যক্তি প্রকৃত বিজেতা হয়, যেহেতু শ্রীকৃষ্ণ হচ্ছেন সেই ব্যক্তি যিনি একজন ব্যক্তিকে পূর্ণ আশ্রয় প্রদান করেন; অন্য কেউই তা পারে না এবং যিনি পূর্ণরূপে ভগবান শ্রীকৃষ্ণের আশ্রয়াধীন হয়েছেন তেমন ব্যক্তির জীবন হচ্ছে সর্বাধিক সফল জীবন।

—২০ সেপ্টেম্বর ১৯৮৯ খ্রিস্টাব্দ,প্রবচন, শ্রীমদ্ভাগবতম্ ৮/৩/২২-২৪, ভক্তিবেদান্ত ম্যানর, ইংল্যান্ড

সেপ্টেম্বর-২১

ভক্তদের প্রতি ভগবান চৈতন্যদেবের ভালোবাসা ও অন্তরঙ্গ সম্পর্ক

শ্রীচৈতন্য মহাপ্রভু, হরিদাস ঠাকুরের শরীর স্নান করানোর পর নিজ হাতে তাঁকে বালির গর্তে শুইয়ে দিলেন এবং নিজ হাতে তাঁকে ঢেকে দিলেন, নৃত্য এবং প্রসাদ বিতরণের মাধ্যমে তাঁর ভক্তের জন্য সকল প্রকার অপ্রাকৃত সেবা করলেন যদিও তিনি (শ্রীচৈতন্য মহাপ্রভু) ছিলেন মহান সন্ন্যাসী তবুও সকল প্রকার অপ্রাকৃত বিনিময় যা তিনি হরিদাস ঠাকুরের জন্য করেছিলেন তা ছিল অতুলনীয় এবং একটা ধারণা দিয়েছিল যে তিনি কতটা তাঁর ভক্তদের ভালবাসেন এবং তাদের সাথে তাঁর কতটা অন্তরঙ্গ সম্পর্ক বিদ্যমান।

—২১ সেপ্টেম্বর ১৯৮৩ খ্রিস্টাব্দ, শ্রীচৈতন্যচরিতামৃত, আটলান্টা, আমেরিকা

সেপ্টেম্বর-২২

ভগবান চৈতন্যদেবের আন্দোলনের সাথে পুর্ণ সঙ্গতি

আমাদের মনে আছে যে, শ্রীনিবাস আচার্য, শ্যামানন্দ পণ্ডিত এবং নরোত্তম দাস ঠাকুর যদিও তাঁদের সকলেরই দীক্ষার ভিত্তিতে পৃথক পারমার্থিক গুরু ছিলেন কিন্তু তারা সকলেই সমবেতভাবে কাজ করেছিলেন। তখন একটি মাত্র আন্দোলন ছিল যদিও অনেক পারমার্থিক শিক্ষাগুরু ছিলেন, অনেক ভক্ত ছিল, অনেক বৈষ্ণব ছিল শ্রীচৈতন্য মহাপ্রভুর একটিই আন্দোলন ছিল। কোন অসঙ্গতি ছিল না, যথাযথ সহযোগিতা ছিল, বৈচিত্র্যের ঐক্যতা ছিল। শ্রীল প্রভুপাদ ইস্কন প্রতিষ্ঠা করেছেন ও একই মৌলিক পরিকল্পনা দিয়েছেন।

—২২ সেপ্টেম্বর ১৯৮৫ খ্রিস্টাব্দ, শ্রীচৈতন্যচরিতামৃত, আটলান্টা, আমেরিকা

সেপ্টেম্বর-২৩

জীবনের প্রকৃত সন্তুষ্টি

মায়া অথবা ভ্রম হল এই যে, আমরা মনে করি যে জড় জগতের ত্রিগুণের নিয়ন্ত্রণে সুখী হওয়ার বিভিন্ন কার্যক্রমের দ্বারা আমরা সুখী হতে পারব। ত্রিগুণের দ্বারা পরিচালিত এই সকল কার্যক্রম আমাদের সেই সন্তুষ্টি দেয় না, আমরা যা অনুসন্ধান করছি। জীবনে প্রকৃত সন্তুষ্টি অর্জনের জন্য কৃষ্ণের সাথে অপ্রাকৃত সম্বন্ধ স্থাপন করতে হবে।

—২৩ সেপ্টেম্বর ১৯৮৪ খ্রিস্টাব্দ, শ্রীচৈতন্যচরিতামৃত, আটলান্টা, আমেরিকা

সেপ্টেম্বর-২৪

কলকাতায় প্রসারের গুরুত্ব

একদিন তিনি (শ্রীল প্রভুপাদ) কলকাতায় পাঠ দিচ্ছিলেন এবং ভক্তদের বলেছিলেন, “এটা আমার জন্মস্থান শহর এবং তোমরা এখানে রয়েছ, তোমরা অন্য কোথাও অথবা যদি তোমাদের নিজের দেশে ফিরে যেতে তার তুলনায় এখানে থেকে ভক্তিময় কার্য সম্পাদনের জন্য দশ হাজার গুণ বেশি সুকৃতি অর্জন করছ। তারপর প্রকৃতই বলেছিলেন, এমনকি আমিও এখানে থাকতে পারি না কিন্তু তোমরা এই তপশ্চর্যা পালন করছ কেননা বর্তমানে কলকাতা খুবই জনবহুল, পাশ্চাত্যের যে কারও জন্যই এটা সম্পূর্ণ পরিবর্তন এবং প্রকৃতপক্ষে তিনি খুবই প্রভাবিত হয়েছিলেন। কিন্তু তিনি খুবই কৃতজ্ঞ ছিলেন যে ভক্তরা কলকাতা এবং বাংলায় থেকে তপশ্চর্যা করছিল এবং সংকীর্তন আন্দোলনকে, এটার আসল জায়গায় পুনরুজ্জীবিত করতে তাঁকে সাহায্য করছিল।

—২৪ সেপ্টেম্বর ১৯৮৪ খ্রিস্টাব্দ, আটলান্টা, আমেরিকা।

সেপ্টেম্বর-২৫

কৃষ্ণভাবনামৃতের পারমার্থিক আনন্দে সম্পূর্ণরূপে পূর্ণ থাকা

হরিদাস ঠাকুর এবং অন্যান্য মহান ভক্তরা সহ্য করতে সমর্থ হয়েছিলেন কেননা প্রকৃতপক্ষে ইতোমধ্যে তারা এক উচ্চতর স্বাদের ধারণা পেয়েছিলেন এবং এজন্য যখন জাগতিক সুবিধা ভোগের সুযোগ তাদের কাছে আসত, যেহেতু তারা পূর্ব থেকেই কৃষ্ণভাবনামৃতের পারমার্থিক আনন্দে সম্পূর্ণরূপে পূর্ণ ছিলেন তাই তারা সুরক্ষিত ছিলেন। ...একইভাবে যদি আমরা, আমাদেরকে কৃষ্ণভাবনামৃতে পূর্ণ করি তখন আর কিছুই যোগ করার বাকি থাকে না, এটাই একমাত্র সুরক্ষা।

—২৫ সেপ্টেম্বর ১৯৮৩ খ্রিস্টাব্দ,শ্রীমদ্ভাগবত, নিউইয়র্ক, আমেরিকা

সেপ্টেম্বর-২৬

পরিছন্নতা

একজন ব্রাহ্মণের উচিত যেখানেই তিনি যান না কেন, দায়িত্বের সাথে দেখা যে সবকিছু উপযুক্ত মানদণ্ডে রাখা আছে কিনা। তারা কোন অগোছালো অথবা অপরিষ্কার জায়গায় বাস করতে পারেন না। এটাই ছিল শ্রীল প্রভুপাদের যুক্তি। শ্রীল প্রভুপাদ প্রকৃতই পরিচ্ছন্নতার প্রতি জোরালো ছিলেন।

—২৬ সেপ্টেম্বর ১৯৮৪ খ্রিস্টাব্দ, মুরারী সেবক, টিনেসী, আমেরিকা

সেপ্টেম্বর-২৭

ভক্তের গুণাবলী

ভক্তরা, কৃষ্ণের বিরুদ্ধে এই পরিপূরণ ব্যবসা বন্ধ করেছে, তারা তাদের ভোগ প্রবৃত্তি এবং ইন্দ্রিয়তৃপ্তির জন্য জড়জগতকে শোষণ করার চেষ্টা বন্ধ করেছে এবং তারা বরং তাদের বুদ্ধি, সুযোগ-সুবিধা, তাদের ইন্দ্রিয়াদি সবকিছু ভগবানের সেবার জন্য ব্যবহার করে। এই প্রক্রিয়ায় তারা আত্মারাম হয়ে উঠে এবং তারা সম্পূর্ণরূপে আত্মারাম হয়ে উঠে, তারা সম্পূর্ণরূপে নিগ্রহ হয় এবং সকল প্রকার জাগতিক বন্ধন থেকে মুক্ত হয়।

—২৭ সেপ্টেম্বর ১৯৮৪ খ্রিস্টাব্দ, মালবেরী, টেনেসি

সেপ্টেম্বর-২৮

কৃষ্ণভাবনামৃত আন্দোলন সম্প্রসারনের রহস্য

প্রভুপাদ খুবই কৃপাপরায়ণ ছিলেন কেননা তাঁর ছিল হাজার হাজার শিষ্য এবং এটা তাঁর জন্য সম্ভব ছিল না যে, তিনি নিজে প্রত্যেক শিষ্যকে একটা ভক্তিময় কার্য অর্পণ করবেন। যদিও তিনি জি.বি.সি নিয়োগ করেছিলেন এবং মন্দিরের প্রেসিডেন্ট ছিল। তিনি বলেছিলেন যে, যেকোন সেবাই তারা দেবে তিনি সেটা গ্রহণ করবেন যেহেতু তারা তাঁর পক্ষে প্রতিনিধি হিসাবে কাজ করছেন, তা না হলে তিনি কোন বিশেষ ভক্তিপূর্ণ সেবা কিছু ভক্তকে দিয়েছিলেন। প্রভুপাদ বলেছিলেন, কৃষ্ণভাবনামৃত আন্দোলন সম্প্রসারণের এটাই ছিল রহস্য যে, আমাদের মূলনীতি ছিল—আমরা সব কিছুই করি ভগবানের দাসানুদাস হিসাবে এবং এটাই আমাদের পারমার্থিক গুরুদেবের প্রতি ভক্তিপূর্ণ সেবার মূলনীতি।

—২৮ সেপ্টেম্বর ১৯৮৫ খ্রিস্টাব্দ, শ্রীচৈতন্যচরিতামৃত, নিউ আর্লিন্স, আমেরিকা।

সেপ্টেম্বর-২৯

কৃষ্ণের জন্য কিছু করা

‘কৃষ্ণের জন্য কিছু করা’, এই চেতনার অনুশীলন করতে হবে। সাধারণভাবে লোকেরা সবকিছু জাগতিক আসক্তির ভিত্তিতে করে থাকে। তারা বলে আমি, আমরা। আমি হলাম এই শরীর এবং এই সব জিনিসের সাথে সংযুক্ত এবং তাই আমাকে কঠোর পরিশ্রম করতে হবে। কিন্তু প্রকৃত চেতনা হল সবকিছু প্রকৃতপক্ষে কৃষ্ণ থেকে এসেছে, তা বুঝতে পারা। বাহ্যিকভাবে এসব জিনিস মায়ার সাথে সংযুক্ত তাই আমার কিছু বাহ্যিক দায়িত্ব রয়েছে। কিন্তু পরিণামে আমার দায়িত্ব হল কৃষ্ণের প্রতি এবং এটা আত্মার দায়িত্ব।

—২৯ সেপ্টেম্বর ১৯৮৬ খ্রিস্টাব্দ, শ্রীমদ্ভাগবত প্রবচন, টরেন্টো, কানাডা।

সেপ্টেম্বর-৩০

মহাপ্রসাদ কৃষ্ণের করুনা

কেউ যখন প্লেটে মহাপ্রসাদ নেয়, তখন সম্পূর্ণ প্রসাদ শেষ করবে এবং কিছুই অবশিষ্ট থাকবে না এটাই মনে করা হয়। একজনের খুব সতর্ক থাকা উচিত যেন সে যতটা খেতে পারবে তার থেকে বেশি না নেয়। গুরুদেবের ক্ষেত্রে ব্যতিক্রম দেখা যায়, তিনি প্রতিটা পদ থেকে কিছুটা তাঁর শিষ্যের জন্য অবশিষ্ট রাখেন। প্রভুপাদ, তিনি খুবই সতর্ক ছিলেন এমন কি যদি কিছু পুড়েও যেত তিনি তা উল্লেখ করতেন না যতক্ষণ প্রসাদ শেষ না হয় এবং তারপর তিনি রাঁধুনীকে ডাকতেন এবং বলতেন যে ঐ রান্নার পদটি পুড়ে গিয়েছিল এবং আরো সচেতন হতে বলতেন। প্রসাদের উপস্থিতিতে আমরা সমালোচনা করতে পারি না। আমরা এটিকে কৃষ্ণের করুণা হিসাবে গ্রহণ করতে পারি এবং এটি কৃষ্ণ থেকে ভিন্ন নয়।

—৩০ সেপ্টেম্বর ১৯৮৬ খ্রিস্টাব্দ, আটলান্টা, আমেরিকা।

সন্ন্যাসী শিষ্য

মুকুন্দ গোস্বামী

অস্ট্রেলিয়া

গোপাল কৃষ্ণ গোস্বামী

ভারত

ভানু স্বামী

চেন্নাই, ভারত

ভক্তি রাঘব স্বামী

ভারত

ভক্তি বিকাশ স্বামী

ভারত

ভক্তিবিদ্যা পূর্ণ স্বামী মহারাজ

শ্রীধাম মায়াপুর, ভারত

শ্রীমৎ ভক্তি পুরুষোত্তম স্বামী

শ্রীধাম মায়াপুর, ভারত

গৌরাঙ্গ প্রেম স্বামী

শ্রীধাম মায়াপুর, ভারত

ভক্তি সিদ্ধান্ত স্বামী

সুইডেন

ভক্তি ধীর দামোদর স্বামী

আফ্রিকা

ভক্তি বিনোদ স্বামী

কোয়েম্বাটুর, ভারত

ভক্তি নিত্যানন্দ স্বামী

শ্রীধাম মায়াপুর, ভারত

মুরলী কৃষ্ণ স্বামী

ওড়িশা, ভারত

ভক্তি মুকুন্দ স্বামী

মালয়েশিয়া

ভক্তি প্রিয়ম গদাধর স্বামী

রংপুর, বাংলাদশ

ভক্তি বিনয় স্বামী

ঠাকুরগাঁও, বাংলাদেশ

ভক্তি অদ্বৈত নবদ্বীপ স্বামী

সিলেট, বাংলাদশ

ভক্তি অর্জব প্রীতিবর্ধন স্বামী

শ্রীধাম মায়াপুর, ভারত

ভক্তি বিলাস গৌর চন্দ্র স্বামী

শ্রীধাম মায়াপুর, ভারত

ভক্তি বিজয় ভাগবত স্বামী

শ্রীধাম মায়াপুর, ভারত

চৈতন্য চন্দ্র চরণ প্রভু (দীক্ষা-গুরু)

রাশিয়া

যোগাযোগ করুন

ঠিকানা

Jayapataka Swami Archives
২য় তলা, প্রভুপাদ নিবাস, অভয় নগর, মায়াপুর, পশ্চিমবঙ্গ ৭৪১৩১৩, ভারত

কল করুন

ভারত অফিস ফোন: +৯১৭৩৮৪৫২২২১১
ভারত হোয়াটসঅ্যাপ নম্বর: +৯১৯৮০০৯১৫৫৫৩
বাংলাদেশ অফিস এবং হোয়াটসঅ্যাপ নম্বর: +৮৮০১৩০৩৭০৪০৩১

ইমেইল করুন

info@jayapatakaswamibangla.com
publications.victoryflag@gmail.com

খোলা থাকবে

সোমবার - শনিবার